ইয়ানূর রহমান : যশোরের রাজগঞ্জে মাছবাহী পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মা ও তাঁর চার বছরের শিশু ছেলে নিহত হয়েছেন। পিকআপের ধাক্কায় সড়কে পড়ে যাওয়ার পর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রলিগাড়ি তাঁদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মায়ের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় স্বামী ব্যবসায়ী ওমর ফারুক আহত হয়েছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মনিরামপুরের রাজগঞ্জের হানুয়ার বাজারের বটতলার আগে তালতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের হানুয়ার মানিকগঞ্জ গ্রামের ব্যবসায়ী ওমর ফারুকের স্ত্রী মৌসুমী বেগম (৩২) ও তাঁদের চার বছরের ছেলে আবদুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে শিশুসন্তান আবদুর রহমানকে চিকিৎসক দেখাতে স্ত্রী মৌসুমী বেগমকে নিয়ে মোটরসাইকেলে যশোরে এসেছিলেন ওমর ফারুক। চিকিৎসক দেখানো শেষে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় পরিবারটি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, মোটরসাইকেলটি রাজগঞ্জের হানুয়ার বাজারের তালতলা এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির একটি মাছবাহী পিকআপ পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে সড়কে ছিটকে পড়েন মৌসুমী বেগম ও তাঁর শিশু সন্তান আবদুর রহমান।
ঠিক ওই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রলিগাড়ি সড়কে পড়ে থাকা মা ও শিশু সন্তানের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে দুজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই মারা যান মৌসুমী বেগম। তবে দুর্ঘটনার পরও জীবিত ছিল তাঁর চার বছরের ছেলে আবদুর রহমান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। গুরুতর আহত আবদুর রহমানকে চিকিৎসার জন্য যশোরের আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে দুর্ঘটনায় আহত মোটরসাইকেল চালক ওমর ফারুককে আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
পরে মৌসুমী বেগম ও তাঁর শিশু সন্তান আবদুর রহমানকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাজীব রায় চৌধুরী জানান, মা ও শিশুকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছিল। দুজনের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে মাথার আঘাতপ্রাপ্ত স্থান দিয়ে মস্তিষ্কের টিস্যু বেরিয়ে আসে।
চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুজনের মাথায় গুরুতর জখম ছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের মৃত্যু হওয়ায় চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মৌসুমী বেগম ও তাঁর ছেলে আবদুর রহমানের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি কবীর হোসেন জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
