বিশেষ প্রতিনিধি , পাবনা : মৎস্য ভান্ডার খ্যাত হিসেবে পরিচিত চলনবিলে শীতের শুরুতে লাখ লাখ অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে। শীতের শুরুতে কাঁকডাকা ভোর হতেই নানা প্রজাতির মাছের অবাধ বিচরণ হাজারো পঙ্খী মালা নীল আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো যেন এক অপরুপ সৌন্দর্য্য ফুঠে ওঠে। সন্ধ্যা হলেই ঝাক বেঁধে পাখিরা গাছে গাছে নিরাপদ আশ্রয় নেয়। বিলের অল্প পানিতে সাদাবক, গাংচিল, বালিহাস, পানকৌড়ি, ডাহুক সহ অতিথির পাখির ডুব দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য ও ঋষি বকের ধ্যান মগ্ন ছবি মানুষের মনে অনাবিল সুখানূভুতির সৃষ্টি করেছে। চলনবিল এখন অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত ও মিলন মেলা সকলেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
পাবনা নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলা বেষ্ঠিত চলনবিল। বিশেষ করে পাবনার চাটমোহর ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার অধিকাংশ স্থান জুড়ে এর অবস্থান। এই বিলে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের দু’পাশে ও সিংড়া-বারুহাস-তাড়াশ ডুবন্ত সড়কে নামলেই প্রকৃতির মাঝে সাদাবক, পানকৌড়ি, শামুকখোল, বালিহাস সহ অসংখ্য অতিথি পাখির ডানা মেলে উড়াউড়ি, কোলাহল, কলরব চোখে পড়ে। আর মাছে ভরপুর হাটু পানিতে প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির মিলন মেলায় যেন স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছে চলনবিল জুড়ে। কাঁকডাকা ভোরের আলোতে চলনবিল জুড়ে দলবদ্ধ ভাবে অতিথি পাখির বিচরন করার চিত্র যে কাউকেই মুগ্ধ করবে।
মাগুড়া গ্রামের কৃষক সহিদুল ইসলাম ও তাজপুর গ্রামের বাবুল হোসেন মুখের ভাষ্য, বিশেষ করে সাদা বকপাখি চলনবিলের কৃষকের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। এবছর এই বিলে লাখ লাখ অতিথি পাখির আগমন হয়েছে। এর মধ্যে সাদা বক ও শামুকখোল পাখি বেশি চোখে পড়ছে। এই বক ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে থাকে। আবার হালচাষের সময় পেছনে পেছনে সাদাবক দল বেধে পোকামাকড় খেতে ভীড় জমায়। তাছাড়া পাখি বিলের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে থাকে। তারা কাউকেও এই বিলের পাখি শিকার করতে দেন না।
পরিবেশবাদী সংগঠন চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর এই সময় চলনবিলে নিজেদের আহার যোগাতে বক, বালিহাস, প্রাণকৌড়ি, শামুকখোল সহ নানা প্রজাতির ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির আগমন ঘটে। প্রকৃতির মাঝে পাখ-পাখালির বিচরণ ও ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি করে। এরই মাঝে কিছু লোভী শিকারি ফাঁদ পেতে সেই পাখি শিকারও করে থাকে। এই বিলের পাখি রক্ষায় সংগঠনের সদস্যরা ২০১২ সাল থেকে নিরোলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাখি শিকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে অবহিত করছেন এবং বিলের পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা মূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।
পাবনার চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, চলনবিল জীববৈচিত্র্য ভরপুর একটি বিল। এই বিলের পাখি ও পরিবেশ রক্ষায় চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে চলেছেন। সম্প্রতি তাদের সহযোগিতায় প্রশাসন আটজন অসাধু পাখি শিকারিদের জেলা-জরিমানা করা হয়েছে। যে কারনে পাখি শিকার রোধে বিলের মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাখি শিকারের বিশেষ ভাবে তৈরি কিল্লা ঘর ফাঁদ ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে পাখির নিরাপদ আশ্রয় তৈরি হয়েছে। বিলের পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসন সব সময়ই তৎপর রয়েছে।
