পাবনায় জমে উঠেছে সপ্তাহব্যাপী পাবনা উৎসব ও উদ্যোক্তা মেলা

আর কে আকাশ, পাবনা : পাবনার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল মুক্তমঞ্চ (স্বাধীনতা চত্বরে) জমে উঠেছে সপ্তাহ ব্যাপী “পাবনা উৎসব ও উদ্যোক্তা মেলা”। দর্শনার্থীরা মেলার স্টলগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। বেচাকেনাও হচ্ছে জমজমাট। “হৃদয়ে পাবনা” ও “বাংলাদেশ উদ্যোক্তা ফোরাম” নামে দুইটি সংগঠনের আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো ২৩ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর সপ্তাহব্যাপী এ মেলা ও উৎসব শুরু হয়।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের প্রচার-প্রসার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এ মেলা ও উৎসবের আয়োজন করা হয়।

মেলার ৫৭টি স্টলের মধ্যে অধিকাংশই ছিল নারী উদ্যোক্তাদের। পাট, বাঁশ-বেতের তৈরি সামগ্রী, বিভিন্ন রকমের কেক, পিঠা পুলি, নাড়–, জিলাপী, খই, খুরমা, ফুচকা, চটপটি, আঁচার, জামাকাপড়, গাছ, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্য এ মেলার স্টলে স্থান পেয়েছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য মেলা প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রয়েছে।
“পাবনা উৎসব ও উদ্যোক্তা মেলা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব সোনিয়া কিচেনের সৈয়দা সোনিয়া খাতুন বলেন, এ মেলায় হাজার হাজার দর্শনার্থী ও ক্রেতারা আসছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য দেখে তারা কিনছেন এবং উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করছেন।

“পাবনা উৎসব ও উদ্যোক্তা মেলা উদযাপন পরিষদের সদস্য তামান্না তানজীন বলেন, পাবনাতে মাঝে উদ্যোক্তা মেলা হলেও প্রতি বছরের ন্যায় আমরা এবারও “পাবনা উৎসবের” আয়োজন করেছি। আয়োজনটি করতে পেরে বেশ ভালো লাগছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের আয়োজন সবার নজর কেড়েছে। পাবনার উদ্যোক্তাদের জন্য আরও ভালো কিছু হবে বলে আশা করছি।

ইলা ফ্যাশনের উদ্যোক্তা মারুফা ইয়াসমিন ইলা বলেন, নিজেদের পণ্যগুলো ক্রেতাদের নজরে ও অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও যেন বিক্রি করতে পারি মূলত সে কারণেই আমাদের এ মেলায় আসা। আমরা বিশেষ করে যারা নারী উদ্যোক্তা রয়েছি, আমাদের পণ্যগুলো সরাসরি ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দিতে পারছি।

উত্তরণ সাহিত্য আসরের সভাপতি ও কবি আলমগীর হোসেন হৃদয় “পাবনা উৎসব ও উদ্যোক্তা মেলার” ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এটি একটি ভিন্নধর্মী আয়োজন, এটি পাবনা জেলার শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির ব্যান্ডিং। পাবনা জেলার ১৯৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিক উপলক্ষে ব্যতিক্রমর্ধমী এই আয়োজন পাবনাবাসীর হৃদয়ে গেঁথে থাকবে।

উদ্যোক্তা মেলার আয়োজক হৃদয়ে পাবনার সভাপতি ও গণমাধ্যমকর্মী আর কে আকাশ বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ও ঐতিহ্যবাহী জেলা পাবনা ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ অক্টোবর স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। পাবনা জেলার ১৯৮তম প্রতিষ্ঠা বা জন্মবার্ষিক উপলক্ষে পাবনাতে আমরা “পাবনা উৎসব ও উদ্যোক্তা মেলার” আয়োজন করে থাকি।
উৎসবে পাবনার ইতিহাস, ঐতিহ্য, স্থাপনা, প্রতিষ্ঠানের তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, কৃতিজনদের সম্মাননা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, পাবনা জেলাকে নিয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, নৃত্য প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগীতা, বিশিষ্ট্যজনদের শুভেচ্ছা বক্তব্য, পাবনার আঞ্চলিক গান ও নৃত্য নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি।
অনেক তরুণ উদ্যোক্তা “পাবনা উৎসব ও উদ্যোক্তা মেলায়” যুক্ত হয়েছেন। তারা তাদের তৈরি পণ্যের প্রচার করতে কেবল অনলাইন ব্যবহার করে। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে তাদের এই প্রচারটা সরাসরি ক্রেতাদের সামনে করার লক্ষ্যেই মূলত নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় এই মেলার আয়োজন।