মধুপুরে শিয়ালের আতঙ্ক, ১১ ঘণ্টায় কামড়ে আহত ২১

কামরুল হাসান : টাঙ্গাইলের মধুপুরে শিয়ালের আক্রমণ ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র ১১ ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিয়ালের কামড়ে অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশু থেকে শুরু করে তরুণ ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা সোয়া ২টা থেকে রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত আহত ব্যক্তিরা মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। একের পর এক রোগী হাসপাতালে পৌঁছানোয় জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা দিতে ব্যস্ত সময় পার করেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন আউশনারা ইউনিয়নের বেলচুঙ্গি গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে রুবেল (৩৫)। রাত সাড়ে ৮টার দিকে মধুপুর পৌর এলাকার দামপাড়া হয়ে বাড়ি ফেরার পথে শিয়ালের আক্রমণের শিকার হন তিনি। একই সময়ে পৌর শহরের চাড়ালজানী তেঁতুলতলা এলাকার আরিফও শিয়ালের কামড়ে আহত হন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছে শিশু জান্নাত, সালমা (৪৫), মিরাজুল (১১), আবু সাঈদ (৩), ইদিলপুরের কাদের (৩৫), গোপিনাথপুরের শাহজাহান, চাড়ালজানীর আরজু, দামপাড়ার রাফিউল, টেকিপাড়ার মোতালেব, শিবরামবাড়ীর ইউসুফ (৪০), টেকিপাড়ার মালেক (৬৭), নয়াপাড়ার শাকিল (২৫), মাস্টারপাড়ার আল আমিন (২১) ও কাবেল (২৫)। আহত অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত আবু সাঈদ জানান, শিয়ালের কামড়ে আহত ব্যক্তিরা ধারাবাহিকভাবে হাসপাতালে আসছেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এর আগেও উপজেলায় শিয়ালের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ অক্টোবর গোলাবাড়ী ইউনিয়নের প্রজাপুর গ্রামের সুরুজ আলী (৫০) এবং জগন্নাথপুর গ্রামের এক নারী শিয়ালের আক্রমণে আহত হন। ওই ঘটনায় নাসির উদ্দিনের একটি ছাগলও শিয়ালের কামড়ে আহত হয়েছিল।

মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ জানান, বিড়াল, কুকুর ও শিয়ালের কামড়ে আহত হয়ে প্রতিদিনই অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। এ ধরনের রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তবে হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে বলে জানান তিনি। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে ভ্যাকসিনের সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।

তিনি বন্য প্রাণীসহ কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অল্প সময়ের মধ্যে এত মানুষের শিয়ালের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনায় মধুপুরের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাসিন্দাদের সতর্কতার পাশাপাশি প্রাণীর আক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।