নেতাকর্মীরা আসে, প্রতিশ্রুতিও দেয় কিন্তু পাকা হয়না শতবছরের রাস্তা

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
নেতাকর্মীরা আসে, প্রতিশ্রুতি দেয়। ভোট দেওয়া হয়। কিন্তু কাঁচা রাস্তাটি আর পাকা হয়না। সামান্য বৃষ্টিতেই দুই কিলোমিটারের রাস্তায় হাটু পরিমাণ কাদামাটি হয়। মাসের পর মাস এ রাস্তায় গাড়িঘোড়া চলাচল করতে পারে না। ফলে গর্ভবতীসহ অন্যান্য রোগীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া যায়না। পায়ে হেটে স্কুলে যেতেই কাদায় পড়ে যায় শিক্ষার্থীরা। শত বছরের এ কাঁচা রাস্তা দিয়েই অতিকষ্টে যাতায়াত করেন গ্রামবাসী।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে গুরুদাসপুরের চাপিলা ইউনিয়নের ধানুড়া মীরপাড়ার রঞ্জুর বাড়ির সামনে থেকে আদর্শগ্রামের দেলবারের বাড়ি পর্যন্ত কাঁচারাস্তা পাকাকরণের দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ওই কথাগুলো বলেন এলাকাবাসী। এসময় ধানুড়া পশ্চিমপাড়া কবরস্থানের সামনের রাস্তায় কাদামাটিতে ধানগাছ লাগিয়ে প্রতিবাদ জানান তারা।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার এ রাস্তা দিয়ে ধানুড়া পশ্চিমপাড়া, মীরপাড়া, আদর্শ গ্রাম, ফকিরপাড়া, মিল্কি পাড়া, নাজিরপুরসহ ৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, আহম্মেদপুর, বনপাড়া, নাটোরসহ স্থানীয় চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি। পাশেই রয়েছে আদর্শগ্রাম, হাইস্কুল, প্রাইমারী স্কুল ও মাদ্রাসা। রাস্তাটির বেহাল দশায় হাট-বাজারে পণ্য আনা নেওয়াসহ দৈনন্দিন চলাচলে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন গ্রামবাসী। এ বেহাল দশায় শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যাচ্ছেনা।

স্থানীয় বাসিন্দা সত্তরোর্ধ আজগর আলী, জলিল উদ্দিন, কৃষক হাবিল উদ্দিনসহ অনেকে বলেন- ধানুড়া পশ্চিমপাড়ার ১০৭০ ও ১০৭২ আইডিভুক্ত এ রাস্তায় শতবছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। রাস্তাটি চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী। গাড়ি না চলায় সাপে কাটা রোগীকেও কাঁধে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্তস্বত্বা মা বোনদের হসপিটালে নিতে গাড়ি পাওয়া যায়না। কাদামাটির রাস্তায় জমির ফসলও ঘরে তুলতে পারছেনা কৃষকরা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা আরও বলেন- ভোটের আগে অনেক চেয়ারম্যান, মেম্বার রাস্তাটি পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটা ইটও পড়েনি। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন গ্রামবাসী।

চাপিলা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন- ধানুড়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী স্কুলে যায়। কিন্তু রাস্তায় কাদা পানির কারণে ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতেও অনীহা প্রকাশ করছে। দ্রুত রাস্তাটি পাকা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ বলেন, “উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে আলোচনা করে কাঁচা রাস্তাটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” #