বড়াইগ্রামে তালা ভেঙ্গে বহিষ্কৃত অধ্যক্ষকে চেয়ারে বসালো ছাত্রদল নেতাকর্মীরা

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের বড়াইগ্রামে অর্থ আতœসাতের অভিযোগে বহিষ্কৃত অধ্যক্ষকে অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে চেয়ারে বসালেন কলেজ ছাত্রদলের সভাপতিসহ নেতাকর্মীরা।
রোববার উপজেলার জোনাইল ডিগ্রী কলেজে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষকদের বাধা উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসাবে পরিচিত একজন বহিষ্কৃত ব্যাক্তিকে পুনর্বহালের চেষ্টায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ আবুল আসর শফিউজ্জামানের কাছে বিগত দিনের আয়-ব্যয়ের হিসাব চান। কিন্তু তিনি তা দিতে না পারায় কলেজের গভর্নিং বডি তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেন। একই সাথে উপাধ্যক্ষ এসএম রাজিবুল করিমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাধার কারণে আর কলেজে আসতে পারেননি। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর রোববার কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন নেতাকর্মীসহ বহিরাগত যুবকেরা বহিষ্কৃত অধ্যক্ষকে নিয়ে কলেজে যায়। পরে তারা
অধ্যক্ষের কক্ষের তালা ভেঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অন্যান্য শিক্ষকদের বাধা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক তাকে দায়িত্বে পুনর্বহালের চেষ্টা করে। এ সময় উভয় পক্ষই মাঠে অবস্থান নিলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ব্যাপারে কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ একজন চিহ্নিত আওয়ামী দোসর।
তাছাড়া কলেজের অর্থ আতœসাতের অভিযোগে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। অথচ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একজন দুর্নীতিগ্রস্থ আওয়ামীলীগের দোসরকে এভাবে স্বপদে বহালের চেষ্টা করবে এটা দুঃখজনক।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এসএম রাজিবুল করিম বলেন, তারা বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে কলেজে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সাময়িক বহিষ্কৃত ব্যাক্তিকে পুনর্বহালের চেষ্টা করেছে। এ সময় তারা সিসিটিভির হার্ডডিস্ক খুলে নেয়াসহ আমার কক্ষ থেকে বিভিন্ন দরকারী নথিপত্র ছিনিয়ে নিয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেবো।
তবে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, তালা ভাঙ্গার সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জড়িত নয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে কলেজে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে আমরা কলেজে এসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছি।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।