মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার : চায়ের দেশ ডাকছে, প্রধানমন্ত্রী আসছে। মিছিল, মিটিং আর এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠতে শুরু করেছে মৌলভীবাজার জেলার প্রতিটি উপজেলা শহর ও হাট-বাজার। প্রধানমন্ত্রী বিএনপি’র দলীয় প্রধানের আগমনে তাকে সরাসরি একনজর দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা। উৎসাহ উদ্দীপনার কমতি নেই দলমত নির্বিশেষে নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষেরও। জেলার হাটে, ঘাটে, মাঠে সর্বত্রই এখন আলোচনা এই জেলায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে। সরকার ঘটনের মাত্র চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বুধবার (১৭ জুন) চায়ের দেশ মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল সফরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বুধবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেট নেমে, সড়ক পথে প্রথমে শ্রীমঙ্গল ও পরে মৌলভীবাজার সদরে পৌঁছে নি¤œআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। এদিকে জেলার দুটি উপজেলার অনুষ্ঠানকে ঘিরে মাঠ প্রস্তুত এবং মঞ্চ নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা ও উপজেলার উজ্জীবিত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ দেখভাল করছেন। অনুষ্ঠান নির্বিঘœ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দলীয় নেতাকর্মীরা রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার এ সফরকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচী অনুযায়ী তিনি বুধবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেট নেমে, সড়ক পথে দুপুর ১টায় প্রথমে মৌলভীবাজার জেলার চায়ের জনপদ শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হয়ে সেখানে ১৫২ জন নি¤œআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। পরে সেখান থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সড়ক পথে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছে সেখানে আয়োজিত রাজনগর উপজেলার জন্য বারদ্ধকৃত ১৫৫ জন নি¤œআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। পরে দুপুর সাড়ে তিনটায় স্থানীয় দুসাই রির্সোটে বিশ্রাম ও সেখানে দলীয় নেতাদের নিয়ে রাজনৈতিক সভায় যোগ দিবেন। পরে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে সড়ক পথে সিলেটের উদ্দোশ্যে মৌলভীবাজার ত্যাগ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার শহরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। অনুষ্ঠানস্থল দুটি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে নতুন আঙ্গিকে। টানা বৃষ্টির কারণে কাদাময় হয়ে পড়া মাঠে বালু ফেলে সমতল করা হচ্ছে। মঞ্চ নির্মাণ, প্রবেশপথ সংস্কার, নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরকারি স্থাপনাগুলোও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। এদিকে জাতীয় নির্বাচনের অল্প কয়েক দিন আগে তিনি মৌলভীবাজারের আইনপুর এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় বলেছিলেন, আপনারা ধানের শীষে ভোট দিলে দল সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আসবো। ফলে মাত্র চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাঁর আগমন ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপি ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। সফর উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাবেল জানান- প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে জেলার বাসিন্দারা যেমন উৎফুল্ল। তেমনি দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ উন্নয়নে পিছিয়ে পড়ার যাতনা সামনে এনে নানা দাবি-দাওয়া তুলে ধরছেন। দেশের সবচেয়ে বড় হাওরসহ একাধিক হাওর ও নদী, লেবু, রাবার, আগর আতর শিল্প ও চায়ের রাজধানী খ্যাত এ জেলায় প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স ও রাজস্ব প্রদানে অন্যতম অবদান রাখলেও দীর্ঘদিন থেকে উন্নয়নে চরম অবহেলিত ও বঞ্চিত। প্রধানমন্ত্রীর কাছে মৌলভীবাজার বাসীর দীর্ঘদিনের দাবী একটি মেডিক্যাল কলেজ, মৌলভীবাজার সরকারী কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর, শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু করা, প্রস্তাবিত মিরপুর শ্রীমঙ্গল হয়ে শেরপুর বাইপাস সড়ক নির্মানসহ পর্যটন এলাকার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন দুই উপজেলার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। জানা যায়, রাজনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান ও জনসভা হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থান সংকুলান না হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিবর্তন করে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে এখন মাঠ প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মাঠ দু’টিতে আসছেন বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ। তারা দফায় দফায় পরিদর্শন করছেন। জনসভার আয়োজনকে ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতির নানা খুঁটিনাটি বিষয় তদারকি করছেন। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম জানান প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ ও জনসভার স্থান নির্ধারনের পর ইতিমধ্যে দ্রুততার সঙ্গে সকল প্রস্তুতি চূড়ান্ত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের দলের প্রধানকে বরণ করতে জেলার সর্বস্থরের মানুষ অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। বিগত নির্বাচনের আগে এ জেলায় ২য় নির্বাচনী জনসভায় দেয়া বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে উন্নয়ন প্রত্যাশায় জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের ৪টি আসনই জেলাবাসী ধানের শীষের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘীরে উৎফুল্ল জেলাবাসী নানা উন্নয়নের দাবি তুলছেন।
