খালেদ আহমেদ :
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব ও পরিবেশগত সমস্যা বিষয়ক প্রচারাভিযান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবং মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাবনায় দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী শহরের দিলালপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সেলিম নাজির উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সেলিম নাজির উচ্চ বিদ্যালয় ও শহীদ আহমদ রফিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৫ জন করে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার সামিউল আলম। তিনি বলেন, “এই স্কুলের প্রতি আমার আলাদা দুর্বলতা রয়েছে। আমার দুইজন বড় ভাই এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তোমরা খুবই সৌভাগ্যবান। মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন এবং দেশ স্বাধীন করেছেন, তাদের স্মৃতিবিজড়িত নাম বহন করছে তোমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাই দেশের প্রতি তোমাদের দায়বদ্ধতাও বেশি।”
তিনি আরও বলেন, “সামাজিক জীব হিসেবে সমাজের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ববোধ থেকে সমাজকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করার ক্ষমতা তোমাদের মধ্যেই আছে। এখন থেকেই নিজেদেরকে সেইভাবে গড়ে তুলতে হবে।”
একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্লাস্টিকের কিছু উপকারিতা থাকলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব অনেক বেশি। প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশের বিপর্যয় ঘটাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের গতি বাড়াচ্ছে, জীববৈচিত্র ধ্বংস করছে এবং মানবজাতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। তাই প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমরা নির্মল, সুন্দর ও সবুজ পরিবেশ চাই। সেই লক্ষ্য অর্জনে প্লাস্টিক বর্জনের পাশাপাশি সমাজের জন্য ক্ষতিকর সব কিছুই পরিহার করতে হবে।”
ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলন পাবনার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক এস এম মাহবুব আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবং সভাপতিত্ব করেন সেলিম নাজির উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী।
বেলা’র রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যাল প্রজেক্টরের মাধ্যমে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব, পরিবেশ দূষণ, মাটি ও জলজ প্রাণীর ক্ষতি, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।
আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন রিভারাইন পিপল পাবনা জেলার সভাপতি ড. মনছুর আলম, জেলা তথ্য কর্মকর্তা সহকারী অধ্যাপক কবীর উদ্দিন, চলনবিল এলাকার বেলা নেটওয়ার্ক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, শহীদ আহমদ রফিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রাশিদা পারভীন, সিনিয়র শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, বেলা নেটওয়ার্ক সদস্য শফিক আল কামাল এবং রিভারাইন পিপল পাবনা জেলার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খালেদ আহমেদ।
তন্ময় কুমার সান্যালের উপস্থাপনা শেষে ‘কি শিখলাম’ শীর্ষক পর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন স্কুল দুটির দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাগর হোসেন এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মায়া খাতুন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শহীদ আহমদ রফিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলেনা খাতুন অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্লাস্টিক দূষণ ও মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে পাঁচ মিনিট দৈর্ঘ্যের দুটি প্রামাণ্য ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুবায়ের হুসেন।
সচেতনতা বৃদ্ধির এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মাদকবিরোধী সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।
