হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
গত মে মাসে কয়েক দফা কালবৈশাখী ঝড়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন অসংখ্য গাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়ে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি মালিকানাধীন অধিকাংশ গাছ দ্রুত সরিয়ে ফেলা হলেও সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানাধীন দুই শতাধিক গাছ এখনো পড়ে রয়েছে। ফলে আবাদি জমি ব্যবহার করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন জমির মালিকরা। একই সঙ্গে আউশ ধান চাষাবাদের প্রস্তুতিও ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ১৭ মে থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফা কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক বড় ও ছোট গাছ ভেঙে পড়ে। সরকারি গাছ অপসারণে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় এখনো অনেক গাছ সড়কের ধারে এবং আবাদি জমির ওপর পড়ে আছে। এতে কৃষকরা জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না।
উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের সুবর্ণদহ গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা থেকে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের শেষ সীমানা পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জ-গাইবান্ধা সড়কের ধারে অন্তত শতাধিক ছোট-বড় গাছ পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনেও এসব গাছ অপসারণ না করায় ডালপালা ও কাঠের অংশ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি যেসব জমির ওপর গাছগুলো পড়ে রয়েছে, সেসব জমির মালিকরা আউশ ধান চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। দ্রুত গাছ অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
পৌর শহরের হাবলুর মোড় এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে হাবলুর মোড়ের দক্ষিণ পাশে একটি বিশাল আকৃতির রেইনট্রি গাছ ভেঙে পাশের জমিতে পড়ে রয়েছে। প্রায় ২০ দিন পার হলেও গাছটি সরানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গাছটির ডালের ওপর শিশুরা প্রায়ই খেলাধুলা ও দোল খাচ্ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত গাছটি অপসারণ জরুরি।
উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, বন বিভাগের আওতাধীন প্রায় ৬০টি গাছ অপসারণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব কাজ সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০টি গাছের মূল্য নির্ধারণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু গাছের মূল্য নির্ধারণ করে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে এবং বাকি গাছগুলোর মূল্য নির্ধারণের কাজও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আবেদন আসছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আবেদনের ভিত্তিতে গাছের মূল্য নির্ধারণের জন্য বন বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। মূল্য নির্ধারণের পর নিলাম কমিটির মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই পড়ে থাকা গাছ অপসারণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আউশ ধানের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় জুন মাসের প্রথমার্ধ। ১০ জুনের মধ্যেই চারা রোপণ শেষ করা প্রয়োজন। এজন্য কৃষকদের এখনই জমি প্রস্তুত করা দরকার। জমির ওপর পড়ে থাকা গাছ দ্রুত সরানো না হলে কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক ও জমির মালিকরা দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে ঝড়ে পড়ে থাকা সরকারি গাছ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো গাছ সরানো না হলে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে কাঠেরও অপচয় ঘটবে।
