তীব্র গরমে বেড়ায় কদর বেড়েছে তালশাঁসের

তীব্র গরমে বেড়ায় কদর বেড়েছে তালশাঁসের
ওসমান গনি বেড়া (পাবনা)
কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে পাবনার বেড়া উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার সহ রাস্তার মোড়ে মোড়ে তালশাঁস বিক্রির ধুম পড়েছে। তালশাঁসে থাকা জলীয় অংশ শরীরে পানির চাহিদা পূরণ করছে বলে ক্রেতারা জানান।সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাটবাজার সহ লোক সমাগম ব্যস্ততম এলাকা গুলোতে ভ্রাম্যমাণ ভ্যান গাড়িতে করে ঘুরে ঘুরে তালশাঁস বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। আবার কেউ কেউ প্রখর রোদে রাস্তার পাশে ছাতা টাঙিয়েও বিক্রি করছেন সুস্বাদু রসালো এই তালশাঁস। তীব্র রোদ এবং গরমের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তালশাঁসের চাহিদা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে অস্থির পথচারীদের এক মুহূর্তের জন্য হলেও স্বস্তি এনে দিচ্ছে কচি তালশাঁস। আবার অনেকেই বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন রসালো এ ফল।মধু মাসের এ ফলকে কেউ বলে তালের শাঁস, কেউ বলে তালের কুই, কেউ বলে তালের আটি।গরমের মধ্যে তৈলাক্ত খাবারের চেয়ে তালশাঁসে অনেক উপকারী এতে রয়েছে অনেক গুণাগুন তাই জৈষ্ঠের এ মধু মাসে বাজারে নানা ফল উঠলেও কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে ছোটবড় সকলের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তালের শাঁস। বিক্রেতারা শাঁস কেটে সারতে পারছেনা, ক্রেতারা দড়িয়ে রয়েছে শাঁস নিতে।নাকালিয়া বাজারের তালশাঁস বিক্রেতা উজ্জল জানান, প্রতিবছরই এ সময় তালের শাঁস বিক্রি করে তিনি সংসার চালান। গ্রাম অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে তাল ক্রয় করে গাছ থেকে পেরে এনে শাঁস বিক্রি করেন।বৈশাখ মাসের অর্ধেক থেকে প্রায় আষাঢ়ের মাঝামাঝি দুই মাস পর্যন্ত চলবে তালশাঁস বিক্রির ব্যবসা। প্রতিদিন তিনি প্রায় ২ ‘ শ থেকে ২৫০ পিস তালশাঁস বিক্রি করেন । একটি শাঁস আকার ভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি করলে প্রতিদিন তার প্রায় ৫ ‘শ থেকে ৬ ‘শ টাকা লাভ হয়। তালের শাঁস বিক্রি করে চার জনের সংসার চালান তিনি ।নতুন পেচাকোলা গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী আকাশ জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকার তালগাছ থেকে তাল পাইকারি দরে কিনে নিয়ে উপজেলার নাকালিয়া বাজারে সকালে এবং বিকেলে পেচাকোলা যমুনা নদীর ঘাটে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানগাড়িতে করে তালশাঁস সাজিয়ে বিক্রি করেন। ছোট সাইজের তালে দুটি শাঁস এবং বড় সাইজের তালে ৩ শাঁস থাকে। প্রকারভেদে প্রতিটি তাল ১০ এবং ২০ টাকা দরে বিক্রি করেন।এতে দুই বেলা মিলে প্রতিদিন তার ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২’শ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়ে থাকে। বছরের অন্য সময়ে ভ্যান চালিয়ে এবং নানা রকম ফল বিক্রি করে সংসার চালান তিনি।তালশাঁসের পুষ্টি গুণাগুণ সম্পর্কে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাহমিনা সুলতানা নীলা এ প্রতিবেদককে জানান,তালশাঁস শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি ফল। গরমের দিনে তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ পানি শূন্যতা দূর করে। এছাড়া ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, এ, বি কমপ্লেক্সসহ নানা ধরনের ভিটামিন রয়েছে। তালে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কচি তালের শাঁস রক্তশূন্যতা দূর করে। চোখের দৃষ্টি শক্তি ও মুখের রুচি বাড়ায়। বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর বলেন,বাণিজ্যকভাবে আমাদের বেড়া উপজেলাতে কোনো তালগাছ না থাকলেও তাল গাছ বজ্রপাত থেকে মানুষ কে রক্ষা করতে কার্যকারী ভূমিকা পালন করে। সেইসাথে অতি বৃষ্টি থেকে মাটি ক্ষয় রোধ করে। ফল হিসাবেও তালের পুষ্টিগুণ অনেক রয়েছে ।এছাড়াও তালগাছ কাঠের নানাবিধ ব্যাবহার আছে। প্রণোদনা ও বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এবং উদ্বুদ্ধ করণের মাধ্যমে প্রতিবছর তালের চারা রোপন করা হয় কৃষি অফিস থেকে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন ।