সঞ্জু রায়, বগুড়া:
পূরণ হচ্ছে বগুড়াবাসীকে দেয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান শেষে এবার আর অভ্যন্তরীণ রুটে নয় বগুড়ায় স্থাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর। দেশের উত্তর জনপদের আকাশপথ যোগাযোগ, অর্থনীতি ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে বিমানবন্দরের পাশাপাশি গড়ে তোলা হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের প্রথম বিমানঘাঁটি ও অত্যাধুনিক ফ্লাইং একাডেমি। যেখানে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সকল শিক্ষার্থী পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর স্কুল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
পরিদর্শন শেষে ব্রিফিংকালে শুরুতেই বিমান বাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, উত্তরাঞ্চলে একটি অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি নির্মাণের অনুমোদন প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। সেখানে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল সুবিধা গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়বে এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। তিনি আরও বলেন, বগুড়া এয়ারফিল্ডকে পর্যায়ক্রমে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। দ্রুত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং বিমান বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা দেবে।
এসময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল কৃষি, শিল্প ও পর্যটনে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। উত্তরাঞ্চলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বগুড়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উপযুক্ত পাইলট তৈরি করতে বগুড়ায় ফ্লাইং একাডেমিও করা হবে৷ তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বগুড়াকে দেশের অন্যতম এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করা হবে। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেই এই বৃহৎ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্ভাবনাময় আগামীর নানা পরিকল্পনা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতও। আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং প্রদানকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া ২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম বলেন, গত ২০ এপ্রিল বগুড়ার জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কার্গো সুবিধা নিশ্চিত হলে উত্তরাঞ্চলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বড় পরিবর্তন আসবে। তিনি জানান, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের প্রথম সামরিক বিমানঘাঁটি বগুড়াতে স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া বিমানবন্দরে বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পাইলট একাডেমি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এতে সামরিক পাইলটদের পাশাপাশি বেসামরিক তরুণ-তরুণীদেরও পাইলট হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরের জন্য প্রায় ১০ হাজার ৫০০ ফুট রানওয়ে প্রয়োজন। বিদ্যমান রানওয়ে সম্প্রসারণ করে সেই মানে উন্নীত করা হবে। ভবিষ্যতে এই বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি কার্গো ও সামরিক বিমান চলাচল করবে। এতে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। রানওয়ে সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধক স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে বড়মহর গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চবিদ্যালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
পরিদর্শনকালে বগুড়া সদর-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরটি চালু হলে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, পর্যটন ও শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এমনই প্রত্যাশা সকলের।
