ওসমান গনি , বেড়া (পাবনা)
গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ও খড়ায় পাবনার বেড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে আবাদকৃত চরের অর্থকরী ফসল চিনা বাদাম ও তৈল জাতীয় ফসল তিল,গো-খাদ্য (ঘাস)সহ বিভিন্ন সবজি ফসলের জমির গাছ রোদে পুড়ে বিবর্ণ হয়ে কুঁকড়ে মরে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে বলে চাষিরা জানিয়েছেন। যার ফলে এসব ফসলের ব্যপক ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন এসব অঞ্চলের কৃষকরা। পেচাকোলা গ্রামের বাদাম চাষি দেলোয়ার হোসেন, হাফিজ, বাবলু শেখ,মাসুদ কাই, রেজাউল, মোজাফফর সরদার বলেন,প্রায় তিনযুগ আগে যমুনা নদীর করাল গ্রাসে তাঁদের বসতবাড়ি ও আবাদি জমি-জমা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। প্রায় ১৫-২০ বছর ধরে যমুনার পূর্ব পাড়ে এসব জমি জেগে উঠায় ধান,পাট, চিনাবাদাম সহ বিভিন্ন ফসলাদি চাষাবাদ হয়ে আসছে। এ বছরও চিনাবাদাম, তিল ঘাসসহ বিভিন্ন ফসলাদি চাষাবাদ করেছে কৃষকরা। চলতি বছরও এসব জমিতে চিনা বাদাম, তিল ফসল আবাদ করেছেন ,তবে দুই সপ্তাহের প্রচন্ড তাপদাহে ও তীব্র খড়ায় এসব জমির অধিকাংশ চিনা বাদাম ও তিল সম্পূর্ণ বা আংশিক ভাবে ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে সরেজমিনে ঘুরে এবং কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়। চর নাগদাহ গ্রামের কৃষক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে তিল চাষ করেছেন। কয়েকদিনের খড়ায় তাঁর প্রায় ৫ বিঘা জমির তিল গাছ এবং ২ বিঘা জমির বাদাম গাছ রোদে পুড়ে বিবর্ণ হয়ে কুকড়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, প্রচন্ড তাপদাহে চর এলাকার চর নাগদাহ , চর সাফুল্লা, হাটাইল আড়ালিয়া, চর সাড়াশিয়া,চর পেচাকোলা, চর নাকালিয়া মৌজা সহ বিভিন্ন মৌজায় আমার মতন এমন অনেক কৃষকের আবাদকৃত জমির চিনা বাদাম ও তিল ফসল গাছ খড়ায় পুড়ে মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে যদি কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত না হয়, এবং চললান তাপপ্রবাহ যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে চিনা বাদাম তিলসহ অন্যান্য সবজি জাতীয় ফসলের ব্যপক ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এমন অসংখ্য কৃষক।পেচাকোলা গ্রামের কৃষক মো. হাফিজ উদ্দিন বলেন, সে পেচাকোলা যমুনা নদীর পূর্ব পাড় চরে প্রায় ৫ বিঘা জমিতে চিনা বাদাম চাষ করেছে।তন্মধ্যে প্রায় অর্ধেক জমির বাদাম খড়ায় পুরে গাছ গুলো মরে গেছে। এতে তার বাদাম চাষে চলতি বছর লোকসান গুনতে হবে।
চর সাফুল্লা গ্রামের গজনবী বলেন , আমাদের চরাঞ্চলে বাদাম অর্থকরী ফসল হিসেবে চাষ করা হয়।স্বল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় আমরা চিনা বাদাম এবং তিল চাষ করে থাকি। আমি ১০ বিঘা জমিতে চিনা বাদাম চাষ করেছি, গত দুই সপ্তাহের তাপদাহে প্রচন্ড খরায় ৫ বিঘা জমির চিনা বাদামের গাছ রোদে পুড়ে বিবর্ণ হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে ছেলে মেয়ের পড়াশোনার খরচ সহ সারা বছরের সাংসারিক চাহিদা মেটানো তাঁর পক্ষে বেশ কষ্টকর হয়ে যাবে বলে তিনি প্রতিবেদকে জানান।পেচাকোলা গ্রামের বাদাম চাষী বাবলু শেখ বলেন, তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছেন এরমধ্যে তীব্র খরা এবং রোদে তাঁর ২ বিঘা জমির চিনাবাদাম গাছ বিনষ্ট হয়ে গেছে।এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর এ প্রতিবেদককে বলেন,
বেলে – দোআঁশ উর্বর মাটিতে বাদাম, তিল এবং তৈল জাতীয় ফসল ভালো জন্মে। কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় কয়েকদিনের তাপদাহ খড়ায় চরাঞ্চলের বেশকিছু জমির চিনাবাদাম এবং তিল গাছ রোদে পুড়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে।এটা আমি শুনেছি, আমাদের মাঠকর্মীদের তদারকি করতে বলা হয়েছে, কৃষি অফিস থেকে যতদূর সম্ভব আমরা চিনাবাদাম এবং তিল চাষিদের নানা প্রণোদনা সহ এ জাতীয় ফসল চাষে বরাবরই উদ্বুদ্ধ করে থাকি বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
