পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের কন্ডিশন: বিশ্বকাপে কতটা সুবিধা পাবেন মেসি?

মধ্যপ্রাচ্যের কাড়ি কাড়ি টাকার লোভনীয় প্রস্তাব পায়ে ঠেলে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি যখন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন অনেকেই চমকে উঠেছিলেন। তবে সেই বিস্ময়কর সিদ্ধান্তের পেছনে লুকিয়ে ছিল এক সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান।

২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। আর বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে সেখানকার আবহাওয়া, মাঠ এবং কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেকে শতভাগ মানিয়ে নিতেই মেসির এই কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। কিন্তু ইন্টার মিয়ামিতে খেলার এই সিদ্ধান্ত ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলবে? সেই বিশ্লেষণও শুরু হয়েছে ফুটবলবোদ্ধাদের আড্ডায়।

কন্ডিশন ও দীর্ঘ ভ্রমণক্লান্তি থেকে মুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের পরিচ্ছন্ন ও আর্দ্র আবহাওয়া অনেক ফুটবলারের জন্যই বেশ কঠিন। মেজর লিগ সকারে নিয়মিত খেলার কারণে মেসি ওখানকার গরম এবং কৃত্রিম ঘাসের মাঠের সঙ্গে ইতিমধ্যেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। বিশ্বকাপ চলাকালীন অন্য দলগুলোকে যেখানে দীর্ঘ বিমান যাত্রা এবং ঘুমের সমস্যায় পড়তে অনেক দলের খেলোয়াড়দের, মেসি সেদিক দিয়ে স্বাচ্ছন্দেই থাকবেন। রাশিয়া বিশ্বকাপে গিয়ে এই ঘুমের সমস্যার কথা সেন্ট পিটার্সবার্গে সংবাদ সম্মেলনেই বলেছিলেন মেসিদের কোচ হোর্হে সাম্পাওলি।

অনকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় এরকম নানা সমস্যা থেকে মুক্ত থাকবেন মেসি। নিজ দেশের মতোই পরিচিত পরিবেশে খেলবেন তিনি। এই চেনা পরিবেশ তার শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি অনেকটাই কমিয়ে দেবে। আরেকটি বিষয় হলো-ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর তুলনায় এমএলএস-এর তীব্রতা ও চাপ কিছুটা কম। এটি এই মহাতারকার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। ইউরোপের হাড়ভাঙা খাটুনি ও ঠাসা সূচি থেকে দূরে থাকায় তিনি ইনজুরি মুক্ত থাকার এবং নিজের মতো করে ফিটনেস ধরে রাখার পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন। আর্জেন্টিনা দলের জন্য এটি সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর, কারণ তারা বিশ্বকাপে এক সতেজ ও প্রাণবন্ত মেসিকে পাচ্ছে।

জাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন

প্রতিটি মুদ্রারই যেমন ওপিঠ থাকে, এখানেও তেমনি কিছু শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইউরোপের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলোর তুলনায় এমএলএস-এর ফুটবলের মান কিছুটা পিছিয়ে। দীর্ঘদিন তুলনামূলক কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগে খেলার কারণে বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ মঞ্চের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের গতি ও ট্যাকল মেসি কতটা সামলাতে পারবেন, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় থেকেই যায়। তবে এটা ঠিক, বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিতে মেসি যে পাখির চোখ করেছেন তার ‘আমেরিকান ড্রিম’ বেছে নেওয়াই সেটা প্রমাণ করে। এখন ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি ম্যাজিক দেখার অপেক্ষায় পুরো ফুটবল বিশ্ব।