লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ নাটোরের লালপুরে উপজেলা অনেক শিক্ষা অফিসারের যোগসাজশে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক গত ৩১মার্চ ২০১১ সাল থেকে উপজেলার অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়নের বরমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরতা আছেন।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি বাবদ ১০০-৩০০ টাকা ও সনদ প্রদানের নামে ২০০ টাকা করে আদায়, বিদ্যালয়ের সম্পদ বিক্রি এবং একটি সরকারি ল্যাপটপ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারসহ নানা অনিয়মে জড়িত। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কোম্পানির নোট কিনতে বাধ্য করার অভিযোগও করেন তারা।
এ বিষয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে নির্ধারিত তারিখে তদন্ত কার্যক্রম না হওয়ায় অভিযোগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ভর্তি ফি নেওয়া হয় না, কেবল ফরম বাবদ সামান্য টাকা নেওয়া হয়। ল্যাপটপের একটি তার বাড়িতে থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, সেটি অফিসে আনা হয়নি।উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফাইজুল ইসলাম জানান, প্রশাসনিক কারণে নির্ধারিত তারিখে তদন্ত সম্ভব হয়নি এবং পরবর্তীতে তাকে তদন্ত কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি ফি ও সনদ প্রদানে কোন ফি নেওয়ার নিয়ম নেই। তবে অভিযোগ প্রমানিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে জানতে লালপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অফিসে গেলে অফিস তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে তিনি মুঠোফোনে জানান দাপ্তরিক কাজে তিনি নাটোরে আছেন। প্রধান শিক্ষকের সাথে তার যোগসাজসের বিষয় অস্বীকার করে তিনি বলেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ফাইজুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি করে নোটিশ দেওয়া হলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্তে ন্যায় বিচার না পাওয়ার ব্যাপারে একটি লিখিত আবেদন দেওয়ায় তদন্ত কমিটি থেকে ফাইজুল ইসলামকে অব্যাহতি দিয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার গোলাম মোস্তফাকে আহ্বায়ক করে ২সদস্য বিশিষ্ট নতুন একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। অতিদ্রুত তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
