ওসমান গনি,বেড়া (পাবনা)
পাবনা বেড়া উপজেলার যমুনা নদীর পশ্চিম পাড় তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ওপর গরুর বিষ্ঠা বা গোবর মেলা ও শুকানোর কারনে পচা দূরগন্ধে পরিবেশ দূষিত হয়েপরা সহ সিসি ব্লকের ক্ষতি সাধিত হচ্ছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, বেড়া পৌর এলাকার মোহনগঞ্জ থেকে শুরু হয়ে হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়নের সীমানা হয়ে কৈটোলা ইউনিয়নের মাছখালী পর্যন্ত প্রায় সাত কি:মি: এলাকা যমুনা নদীর পশ্চিম পাড় তীর সংরক্ষণ প্রকল্প। তৎকালীন ২০০৪-২০০৫অর্থ বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে তৎকালীন বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পটির কাজ শেষে উদ্বোধনের কিছুদিন পর থেকেই ওইসব প্রকল্প এলাকার অধিকাংশ মানুষ খুব আরাম আয়েশে সিসি ব্লক বিছানো নদীর ঘাটে যমুনা নদীতে গোসল করাসহ রান্না-বান্নার জন্য নদীর পানি ব্যবহার করতে থাকে। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন বেশ কয়েক বছর ধরে ওইসব প্রকল্প এলাকার গো-খামারীরা সিসি ব্লক বিছানো প্রকল্পের ঢালে গ্রাম অঞ্চলের মাটির চুলায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত গরুর বিষ্ঠা বা গোবর দিয়ে তৈরিকৃত ঘষি শুকানোর জন্য দখল করে নিয়েছে। যমুনা নদীর পশ্চিম পাড় তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সাত কি:মি: এলাকার প্রায় অধিকাংশ জায়গায় সিসি ব্লকের ঢালে গোবর মেলা ও শুকানোর কারনে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং সিসি ব্লকের ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। গোবর শুকানোর কারনে নদীতে গোসল করতে আসা মানুষ নদীর পাড়ে সিসি ব্লক দ্বারা তৈরি রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী পথচারী এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে আসা শত শত ভ্রমণ পিপাশুদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ওইসব রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষজন অনেক সময় গোবরের পচা দূর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: আব্দুল হামিদ সরকার বলেন, তার ইউনিয়ন এলাকায় যমুনা নদী পশ্চিম পাড় তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ওপর গোবর শুকানোর ব্যাপারে স্থানীয় গো-খামারীদেরকে মৌখিকভাবে একাধিক বার নিষেধ করা সত্বেও গো-খামারীরা তা মানছেন না।
হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক পেঁচাকোলা গ্রামের বাসিন্দা,সমাজসেবক এমএ সালাম মোল্লা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, তার এলাকা পেচাকোলায় নদীর ঘাটে এসে গোসল করাসহ বাসা বাড়ি, হোটেলের রান্নাবান্নার পানি বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন নিতে আসে এবং গরমের স্বস্তি পাওয়ার জন্য দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই চলতি নদীর পানিতে গোসল করার জন্য এসে থাকে।এছাড়া নদীর সংলগ্ন একাধিক স্থানে মসজিদ থাকায় মুসল্লিরা নামাজ আদায় করার জন্য নদীর ঘাটে অজু করতে আসে। আবার জেলার দূরদূরান্ত থেকে নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করতে শত শত দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসে তাছাড়া এসব এলাকায় যমুনা নদীর পারাপারে এবং আরিচা যাতায়াতে ছোট ছোট একাধিক নৌঘাট থাকায় ওই সব ঘাট এলাকায় গোবর মেলা বা শুকানোর কারণে মুসল্লীরা সহ দেশের দূরদূরান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাসু দর্শনার্থীরা গোবরের পচা দুর্গন্ধে অনেকেই বিব্রত বোধ করে থাকে। অপরদিকে নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা হওয়ায় অধিকাংশ গো খামারীদের বাড়িতে পর্যাপ্ত খোলামেলা জায়গা না থাকায় প্রকল্পের ঢালে এসে গোবর মেলা বা শুকানোর কাজ করে থাকে বলে একাধিক গোখামারীরা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
