ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসে ৭দিন ব্যাপী গাগারিন সায়েন্স ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন

সঞ্জু রায়, স্টাফ রিপোর্টার:
মানব ইতিহাসের প্রথম মহাকাশযাত্রার ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউজে শুক্রবার ইউরি গ্যাগারিন সায়েন্স ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী বক্তব্যে রাশিয়ান হাউজের পরিচালক মিস আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয় উপস্থিত সম্মানিত অতিথিদের স্বাগত জানান এবং ১২ এপ্রিল ১৯৬১ সালে গাগারিনের ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রার বৈশ্বিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই যাত্রা মহাকাশ যুগের সূচনা করে এবং মানব অর্জনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গাগারিনের উত্তরাধিকার আজও তরুণ প্রজন্মকে কৌতূহল, সাহস ও বৈজ্ঞানিক উদ্দীপনায় অনুপ্রাণিত করে। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন। যার মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প এবং রাশিয়া ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটের অবদান উল্লেখযোগ্য।
তিনি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে আগ্রহী হতে নতুন দিগন্ত অন্বেষণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করেন এবং বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনসহ সকল অংশগ্রহণকারী ও অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি তরুণদের রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার মাধ্যমে রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ অন্বেষণের আহ্বান জানান।
এই উৎসবটি বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় যৌথভাবে আয়োজিত হয়েছে এবং এক সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা বিকাশের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী দিনে “ইউরি গাগারিন – মহাকাশে প্রথম মানব” শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিজ্ঞানীদের ভাস্কর্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ৭ম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে নির্বাচিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়, যার মধ্যে ছিল প্রামাণ্যচিত্র গাগারিন এমব্রাসিং দ্য ওয়ার্ল্ড এবং অ্যানিমেটেড সিরিজ দ্য ফ্লাইং স্টোরি। এদিন আলবার্ট আইনস্টাইন-এর ওপর আরিফ আসগরের উপস্থাপনায় একটি বিজ্ঞান বিষয়ক সেমিনার এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মশিউর আমিন ইউরি গাগারিন এর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাকে “বিশ্ব নায়ক” এবং মানব সাহস ও অনুসন্ধানের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয় এবং টেলিস্কোপের মাধ্যমে আকাশ পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
উল্লেখ্য, ইউরি গাগারিন আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিজ্ঞানীদের ভাস্কর্য প্রদর্শনী ১০ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।