মোঃ নূরুল ইসলাম, চাটমোহর (পাবনা)
পাবনার চাটমোহরে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভোরে ইমরান হোসেন (১৭) এর লাশ উদ্ধার করেছে চাটমোহর থানা পুলিশ। উপজেলার গুনাই গাছা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর শ্মশান এলাকা থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইমরান উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের শুকুরভাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নিহত ইমরানের চাচাতো ভাই শুকুরভাঙ্গা গ্রামের হানিফ আলীর ছেলে হেলাল উদ্দিন (৪২), একই গ্রামের কুরবান
আলীর ছেলে সুমন (১৮), ভাঙ্গুড়া উপজেলার উত্তর মেন্দা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে ইজাজুল ইসলাম (২০) ও চাটমোহর উপজেলার চরপাড়া গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে ভাংড়ি ব্যবসায়ী আল আমিন (২৫)।
নিহত ইমরান হোসেনের নিকট আত্মীয় সাদ্দাম হোসেন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় শুকুরভাঙ্গা এলাকা থেকে ইমরান হোসেনের অটোভ্যানটি
ভাড়া নেয় আপন চাচাতো ভাই সুমন হোসেন। এ সময় হেলাল সহ আরো দুজন ছিল অটোভ্যানটির যাত্রী। অটোভ্যান নিয়ে সন্ধ্যা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত চাটমোহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করে তারা। পরে আনুমানিক রাত দশটার দিকে রামচন্দ্রপুর শ্মশান এলাকায় ভ্যান ও মোবাইল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রথমে ইমরানকে মারধর করা হয়। পরে চাচাতো ভাইসহ তার সহযোগীরা ইমরানকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গুড়া উপজেলার একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
পরিবারের লোকজন ইমরানকে খুঁজে না পেয়ে এলাকার বাজারে এসে জানতে পারে তিন ব্যক্তিকে নিয়ে ভাড়ায় গেছে ইমরান। পরিবার ও এলাকাবাসী ওই ৩ ব্যক্তিকে খুঁজতে খুঁজতে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় বিভিন্ন কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হলে এবং তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে ওই তিনজনকে আটক করে চাটমোহর নিয়ে আসে এলাকাবাসী। পরে স্বজন এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে ইমরানকে মেরে শ্মশান এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে। পরে বুধবার রাতেই চাটমোহর থানা পুলিশে খবর দেয় পরিবারের লোকজন।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে ঘটনাস্থল থেকে নিহত ইমরানের লাশ
উদ্ধার করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে। একই সময় অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মরগে পাঠানো হয়েছে।
