সুন্দরগঞ্জে নারী ভোটারের লাইন পূর্ণ পুরুষের শুন্য

হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
কোন প্রকার বিচ্ছিন ঘটনা ছাড়াই চলছে ভোট গ্রহন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোট গ্রহন শুরু হয়েছে। নিরবিচ্ছিনভাবে গ্রহনে নেই কোন উত্তাপ। তবে গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের সবগুলো ভোট কেন্দ্রের লাইনে দেখা গেছে নারী ভোটারের লাইন পূর্ণ এবং পুরুষ ভোটারের লাইন শুন্য। সকাল সাড়ে ৭টায় শান্তিরাম কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ৩০ হতে ৫০ জন পুরুষ ভোটারের একটি লাইন। তখন কোন নারী ভোটার দেখা যায়নি। সকাল ৯টার দিকে কঞ্চিবাড়ি আব্দুল হাফিজ দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা গেছে নারী ভোটারের লাইন। পুরুষ ভোটারের লাইনে ৪ হতে ৬ জনের উপস্থিতি ছিল।
সকাল ১১টায় সীচা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে নারী ভোটারের লম্বা লাইন। যা চোখে পড়ার মত। হিন্দু ভোটারের উপস্থিত ছিল ব্যাপক। চন্ডিপুর এফ হক উচ্চ বিদ্যারয় ও কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, একজন প্রতিবন্ধি নারী ভোটার হুইল চেয়ারে বসে ভোট দিতে এসেছেন। উপজেলার কমপক্ষে ২০টি ভোট কেন্দ্রের তথ্যের ভিত্তিত্বে জানা গেছে, বেলা ৩টা পর্যন্ত ভোটারের উপস্থিতি ছিল ৩০ ভাগ।
চন্ডিপুর ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা মন্টু মিয়া বলেন, পুরুষ ভোটারেরা মাঠে কাজ করছেন। তাছাড়া পুরুষ ভোটাররা সাধারণত বিকালে ভোট দেন। সে কারণে এখন নারী ভোটারের উপস্থিতি কম।
ধর্মপুর ১নং সরকারি প্রাথমিক কেন্দ্রের প্রিজাইটিং অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, বিকালে পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি বাড়তে পারে।
বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহন চলবে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে সার্বক্ষনিক দায়িত্বে পালন করছেন নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে এক জন করে পুলিশ, চারজন নারীসহ ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। তবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৩জন এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২ জন পুলিশ রয়েছেন। এছাড়া গোটা উপজেলায় ৭ জন নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট, ৩ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ২ প্লাটুন বিজিবি ও পুলিশের ১০টি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া স্টাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করছেন।
গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮জন প্রার্থী। প্রার্থীগণ হচ্ছেন জামায়াতের মো. মাজেদুর রহমান, বিএনপির খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী, জাতীয় পাটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোস্তফা মহসিন সরদা, পরমানন্দ দাস (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল), মো. কাওছর আজম হান্নু (আমজনতার দল), মোছা. ছালমা আক্তার (স্বতন্ত্র), মো. রমজান আলীকে (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)।
উপজেলার পনের ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ভোট সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ১১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৫৭৩ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৫৩৫ জন, এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৩টি। মোট কক্ষের সংখ্যা ৭৭৩টি। এর মধ্যে স্থায়ী কক্ষ ৭০৫টি এবং অস্থায়ী কক্ষ ৬৮টি।