হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
সামান্য বৃষ্টিতেই গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ-হরিপুর পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে সড়কটির বিভিন্ন অংশে ধসে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকরা।
উপজেলার সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি প্রতিদিন হাজারো ছোট-বড় যানবাহনের চলাচলে ব্যস্ত থাকে। বিশেষ করে মওলানা ভাসানী সেতুর সংযোগ সড়ক হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ব্যবহার করে নির্মিত হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ২০২৪ সালে সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। হরিপুর সেতু পয়েন্ট থেকে সুন্দরগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে গত এক সপ্তাহের সামান্য বৃষ্টিপাতেই অন্তত ৫০টির বেশি স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
সড়কের চাঁন্দের মোড়, মজিদপাড়া স্কুলের মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পানি জমে পিচ উঠে গেছে। ফলে এসব স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে যান চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পৌর শহরের বাসিন্দা শাহিন মিয়া বলেন, “অতি দ্রুত সড়কের গর্তগুলো মেরামত করা জরুরি। তা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের ধস নামতে পারে। টানা বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”
ধুমাইটারি গ্রামের নয়া মিয়া জানান, “সড়কটি বালু ও মাটি দিয়ে নির্মাণ করায় সামান্য বৃষ্টিতেই গর্ত তৈরি হচ্ছে। সড়কে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে না।”
বেলকা মজিদপাড়া স্কুল শিক্ষক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “গর্তগুলো দ্রুত মেরামত না করলে বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যেকোনো সময় প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজী মাহাবুবুর রহমান বলেন, “নির্মাণের পর এক বছর পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল। বর্তমানে এলসিএস-এর নারীকর্মীরা নিয়মিত সড়কটি তদারকি করছেন। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি নিষ্কাশনের নালা তৈরি করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।”
উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী জানান, “উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়কটি মেরামতের পাশাপাশি টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায় সামান্য বৃষ্টিতেই বারবার একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে এলাকাবাসীকে।
