শৈত্যপ্রবাহে বেড়ায় বীজতলা সহ ফসলের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি

ওসমান গনি বেড়া (পাবনা)

চলমান শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তীব্র ঠান্ডা ও কুয়াশাজনিত কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে অনেক বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে আসন্ন বোরো মৌসুমে চারা সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পাবনার বেড়া উপজেলার চরাঞ্চলের চাষিরা। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।গত এক সপ্তাহ ধরে সারাদেশে শৈত্যপ্রবাহ চলায় প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় এ উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে প্রায় ৫০বিঘা জমির বোরো ধানের বীজ তলা এবং মাষকলাই, সরিষা, ভুট্টা,সহ বিভিন্ন সবজি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায় ,
চারা রক্ষায় প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে কৃষকরা মাঠে নেমে পড়েছেন। কেউ পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিচ্ছেন, কেউ সেচ দিচ্ছেন, আবার কেউ কীটনাশক ও পুষ্টি উপাদান স্প্রে করছেন। কৃষকদের আশঙ্কা এই বীজতলা নষ্ট হয়ে গেলে তাদের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে।চর নাকালিয়ার গ্রামের কৃষক শহিদ মোল্লা বলেন, তীব্র শীতের কারণে তাঁর ৮ বিঘা বোরো ধানের বীজতলা হলদে বিবর্ণ হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া মাষকলাই গাছে পচন ধরে অধিকংশ গাছ মরে যাচ্ছে। একই এলাকার আরেক কৃষক আনোয়ার মোল্লা বলেন , তাঁর ৫ বিঘা মাষকলাই ও ৩ বিঘা ভুট্টা ফসলের ক্ষেত সহ বোরো ধানের বীজতলা সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চর সাফুল্লা গ্রামের কৃষক গজনবী বলেন, গত কয়েকদিনের তীব্র ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় তাঁর ১০ বিঘা জমির উঠতি মাষকলাই বিনষ্ট হয়েছে এবং সরিষা গাছের ফুল পড়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড কুয়াশার কারণে গাছে পোকা ধরে ব্যপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। চর নাগদাহ গামের কৃষক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা জানান, এক সপ্তাহের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় চর নাকালিয়া, চর সাঁড়াশিয়া, হাটাইল আঁড়ালিয়া, চর নাগদাহ, চর সাফুল্লা সহ বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ৫০ বিঘা জমির বোরো ধানের বীজতলা সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় আরও অনেক কৃষক বলেন , তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে চরাঞ্চলের শুধু বোরো ধানের বীজতলা নয় বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চারাগাছ হলুদ হয়ে মরে যাচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা, যা আসন্ন মৌসুমে চারা সংকটের কারণ হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে, কুয়াশা থেকে রক্ষা করে এবং কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সার প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করতে বলা হচ্ছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর বলেন , তীব্র শীতে কোল্ড ইনজুরিতে শীতকালীন সবজি এবং বোরো বীজতলা আক্রান্ত হয়ে থাকে। তবে রাতের বেলা বোরো বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলে বীজতলা অনেকটা ভালো রাখা সম্ভব। মাঠ পর্যায়ে এ বিষয়ে আমরা কৃষকদের বিভিন্ন উৎসাহ মূলক দিকনির্দেশনা দিচ্ছি।শৈত্যপ্রবাহর আগে অধিকাংশ আগাম মাষকলাই কৃষকরা কর্তন করেছে। তবে এক সপ্তাহের শৈত্যপ্রবাহে চরাঞ্চলের বেশ কিছু জমির মাসকলাই ক্ষেতে পচন ধরেছে আমিও জেনেছি , আবহাওয়া ভালো হলে এটা দ্রুত সেরে যাবে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।