সাংবাদিকতার চার যুগ-২৭

এবাদত আলী

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) কর্তৃক শিশু ও নারী উন্নয়ন বিষয়ক রিপোর্টিং প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা হয় পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে। ২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুইদিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ২৬ জন অংশগ্রহণকারি সাংবাদিকের মধ্যে আমার নামও (এবাদতআলী) অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাবনা প্রেসক্লাবের কার্য নির্বাহী সদস্য হওয়ার সুবাদে আমার নাম অর্ন্তভুক্ত করা হয়।
সে মোতাবেক আমি ৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভাদ্র মাসের ২২ তারিখে বলতে গেলে থেমে থেমে বরিষণের সকালে ৯টার কিছু আগে প্রশিক্ষণস্থল পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উপস্থিত হই এবং নাম রেজিস্ট্রেশন করাই। আমার সাথে আরও যে সকল সাংবাদিক এই র্কশালায় অংশগ্রহণ করেন তাঁরা হলেন, আখতারুজ্জামান আখতার, কামাল আহমেদ সিদ্দিকী, আখিনুর ইসলাম রেমন, এইচ কে এম আবু বকর সিদ্দিক,নরেশ মধু, উৎপলমির্জা, আহমেদ উল হক রানা, জি কে সাদি, আব্দুল কুদ্দুস চাঁদু, এমজি বিপ্ল¬ব চৌধুরি, আব্দুল হামিদ খাঁন, হাসানআলী, সরোয়ার মোরশেদ, কাজি মাহবুব মোর্শেদ বাবলা,হাজীরুমি, রুমি খন্দকার, আব্দুল জব্বার, সুশিল তরফদার, শফি ইসলাম, মুরশাদ সুবহানি বাবু, এস এম আইয়ুব, মোফাজ্জল হোসেনসহ অনেকে।
ঈাবনা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কামালআহমেদ সিদ্দিকির সঞ্চালনায় প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রফেসর শিবজিত নাগেরস ভাপতিত্বে পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও পাবনা বার এসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহম্মদ মহিউদ্দিন প্রশিক্ষণ কোর্সেও উদ্বোধন করেন। এসময় সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আঁখিনুরইসলাম রেমন।
প্রশিক্ষণের সমন্বয়কারি বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র প্রশিক্ষক রাফিজা রহমান অংশগ্রহণকারিদের ধারণা গ্রহণ, মূল বক্তব্য ও পাওয়ারপয়েন্টে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের সুচনা করেন। শিশু ও নারী বলতে আমরা কি বুঝে থাকি। এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকেই বলেন যে, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ জগতে মানবজাতির মধ্যে দুই শ্রেণির মানব সৃষ্টি করেছেন তাহলে াপুরুষ ও নারী। শিশু বলতে জাগতিক নিয়মানুযায়ি পুরুষ ও নারীর যৌন মিলনে যে মানব জন্ম নেয় তাহলো শিশু।
রাষ্ট্রীয় বিধান অনুসাওে শিশু ও নারীর অধিকার রয়েছে।কিন্তু আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় শিশু ও নারীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বিদ্যমান। এ বৈষম্য দুর করতে হলে মানবিক মুল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। জাতিসংঘ কর্তৃক শিশু ও নারীর অধিকার বিষয়ক সনদ রয়েছে। সনদে শিশুর অধিকার সম্পর্কে আমরা অনেকেই মনে রাখিনা। শিশু ও বড়দের চাওয়া-পাওয়া সমান নয়। শিশু সনদের চারটি মুলনীতি রয়েছে যেমন, বৈষম্যহীনতা, শিশুর সর্বোচ্য স্বার্থ, বেঁচে থাকা ও উন্নয়ন। কিন্তু আমাদের সমাজে ছেলে শিশু, মেয়ে শিশু, ধনি পরিবারের শিশু, গরীব পরিবারের শিশু, উচ্চ বর্ণ, নিম্নবর্ণ, নিজেরশিশু,দত্তক শিশু, শারিরিকভাবে সক্ষম, শরিরিকভাবে অক্ষম, স্কুলেযাওয়, স্কুলে নাযাওয়া, মেধাবি, কম মেধাবি, সরকারি স্কুল, বেসরকারি স্কুল,শহরের শিশু, গ্রামের শিশু এবং নিজের শিশু ও গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুর মধ্যে বৈষম্য বিদ্যমান। ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সনদে নারীর প্রতি সকল বৈষম্য বিলোপের কথা বল হয়েছে। সনদে নারী পুরুষের মধ্যে সমতা স্থাপন ও বৈষম্য দুর করতে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সুপারিশমালায় নারীর জন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে সমান অধিকার, শিক্ষায় সমান অধিকার, পাঠ্যক্রম অনুসাওে সমান সুযোগ, নিয়োগ দান, বেতন দান, মাতৃত্বের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ, মানুষ হিসেবে নারীর নিজের উন্নয়ন ও বিকাশের জন্য অনুকুল প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি। নারীর অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দান ইত্যাদি।
এরপ শিশু ও নারী বিষয়ক রিপোর্টিং এ দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্র্তন,শিশু ও নারী বিষয়ক রিপোর্টিংএ বিষয় নির্বাচন এবং অংশগ্রহণকারিদের বিষয় উপস্থাপন নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান কাজল। তিনি বাংলাদেশে নারী ও শিশু বিষয়ক সংবাদ সম্পর্কে উল্লেখকরেন, যেমন দুঘর্টনা, যৌননির্যাতন, পরকিয়া ও খুন, ধর্ষণ, লাঞ্চনা (বাস, স্কুল, কর্মক্ষেত্রে), চিকিৎসা- জন্ম দান, ব্রেষ্ট ক্যান্সার, নেশার জিনিষ বিক্রয় বা নেশা করা, পুত্র অগ্রাধিকার, বাল্য বিবাহ/ জোরপুর্বক বিবাহ, সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত, ঐতিহ্যগত প্রথা ও শিশু হত্যা ইত্যাদি। বাংলাদেশের সংবিধানে নারী ও শিশুর অধিকার সম্পর্কে ও তিনি বিষদ আলোচনা করেন। জাতীয়শিশু নীতি-২০১১ এবং নারী অধিকার আইন নিয়ে কথা বলেন। রিপোর্টেও ভাষ াসম্পর্কেও তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে ভাব বিনিময় করেন।
পরদিন যথা সময়ে প্রশিক্ষণ পর্বের সুচনা করলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগের চেয়ারম্যান ড.প্রদীপকুমার পান্ডে। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের সংবাদ পত্র ও সাংবাদিকতা সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন বর্তমানে আমরা তথ্যেও মহা স্বর্গে বাস করছি। তিনি বলেন বাংলাদেশে ২০১৬ সালে দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক ও সান্মাসিক পত্রিকার সংখ্যা ছিলো ২হাজর ৮শ ৩৪টি। বর্তমানে তা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩ হাজারেরও অধিক। এছাড়া বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংখ্যা ও অর্ধ শতকের কাছাকাছি। এত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পৃথিবীর অন্য কোন দেশে বিরল। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইস বুকের কথাও উল্লেখ করেন। সাংবাদিকতা এখন কঠিন সময় পার করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শিশু ও নারী অধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষ করলে পিআইবির মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীর সংবাদে নারী ও শিশু প্রসঙ্গে সততা, নিরপেক্ষতা ও সুস্পষ্টতা নিয়ে আলোচনা করেন।
সমাপন অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন। পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রফেসর শিবজিত নাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আঁখিনুরইসলাম রেমনসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ ও এসময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে মধ্যাহ্ন ভোজের পর আমরা কর্মশালা থেকে বিদায় নিলাম।
(লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট)।
এবাদত আলী,
,সাংবাদিক ও কলামিস্ট,
সদস্য পাবনা প্রেসক্লাব