ওসমান গনি, বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনার চরে শসা আবাদ করে সাত দিনে সাত লাখ টাকার শসা বিক্রি করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে
সবাইকে চমকে দিয়েছে পাঁচ কৃষক।
জানা যায়, উপজেলার হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়নের যমুনা নদী বেষ্টিত নয়ানপুর মৌজায় যমুনার চরে ১৬ বিঘা জমিতে পাঁচজন কৃষক পার্টনারশিপে হাইব্রিড শসা আবাদ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। সাতদিনে ৭ লাখ টাকার শসা বিক্রি এবং শসার বাম্পার ফলন হয়েছে এ খবর চারদিকে ছরিয়ে পরলে প্রতিদিন বিভিন্ন দূর-দুরান্ত থেকে লোকজন সকাল-বিকাল নাকালিয়া বাজার ঘাট হতে খেয়া নৌকা দিয়ে যমুনা নদী পার হয়ে চরাঞ্চলে যাচ্ছেন শসার খেত দেখতে। আবার অনেকেই পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে শসা খেতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে মনের আনন্দে।
গত ব্ধৃসঢ়;হস্পতিবার সরেজমিনে চরাঞ্চলে শসার আবাদ দেখার জন্য গেলে কথা হয় প্রকল্পের মূল পরিচালক কৃষক জুলমত সরদারের সাথে তিনি
বলেন , আমি সহ হাজী আবু সামা ফকির, আব্দুল মালেক ফকির, হেকমত ফকির এই চারজন পাবনার ফরিদপুর উপজেলার পুংগুলি ইউনিয়নের শ্রী
গোবিন্দপুর নতুন গ্রাম থেকে এসে স্থানীয় কৃষজ রইজুল মোল্লাকে সাথে নিয়ে আশ্বিন মাসে ১৬ বিঘা জমি তিন মাসের জন্য লিজ নেই এবং শসার আবাদ শুরু করি। আশ্বিন মাসে জমি প্রস্তুত করে মাসের শেষের দিকে শসা বীজ বপণ করি। বীজ বপণের ৩৭ দিন পরেই গাছ থেকে শসা তুলতে শুরু করি। প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ মণ করে শসা গাছ থেকে তুলে স্থানীয় হাট-বাজার সহ সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপারার লাহিড়ি মোহনপুর ও চরপারা নামক স্থানে পাইকারি দরে আরতে বিক্রি করি।
এছাড়াও স্থানীয় অনেক বেপারি সরাসরি খেত থেকে শসা পাইকারি দরে কিনে নৌপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিমণ শসা ৯০০ থেকে ১৪০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। আরেক কৃষক জুলমুত সরদার জানান , গত ৭ দিনে প্রায় ৭ লাখ টাকার শসা বিক্রি করা হয়েছে।হেকমত ফকির বলেন, ১৬ বিঘা জমিতে শসার আবাদ করতে গিয়ে সব মিলে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে ৭ দিনের বিক্রিতেই মূল টাকা ঘরে এসেছে৷ আব্দুল মালেক বলেন , কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না
হলে আগামী ২-৩ সপ্তাহ গাছে আরও শসা ধরবে এবং বাজারে বিক্রি করা যাবে। বর্তমানে শসার দাম একটু কমে গেছে এখন প্রতিমণ শসা
বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকা দরে। দাম কমে গেলেও তারা আশা করছেন এই হাইব্রিড শসার আবাদে প্রায় সব খরচ বাদ দিয়ে তাদের ৮-১০ লাখ টাকা
লাভ থাকবে। কৃষক জুলমত সরদার আরও বলেন, তিনি দীর্ঘ বছর ধরে তাদের নিজ এলাকা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের প্রকল্প করে আসছেন।
এই চরাঞ্চলে শসার প্রকল্প করতে গিয়ে আমরা স্থানীয় কৃষি অফিসকে না জানানোর কারনে কৃষি অফিস থেকে আমরা কোনো প্রণোদনা বা সহযোগিতা পাইনি। এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর বলেন, শসা মূলত জৈব পদার্থে সমৃদ্ধ ও উত্তম নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পন্ন বেলে দোআঁশ মাটিতে ভালো হয়। ওই অঞ্চলে ১৬ বিঘা জমিতে শসার আবাদ হয়েছে ,যা আপনাদের কাছে জানতে পারলাম। শসা লাভজনক ফসল তবে কৃষকরা কৃষি অফিসের সাথে
যোগাযোগ করলে অবশ্যই তাঁদের প্রণোদনা সহ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। যাতে করে চরাঞ্চলের স্থানীয় কৃষকরা শসা চাষে উদ্বুদ্ধ হন।#
ছবিসহ
