আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক থেকে:
অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, হাওর–পাহাড় ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমির সম্ভাবনায় ভরপুর সুনামগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্ষা–বন্যার চক্র, নদ-নালার অববাহিকা ও মৌসুমি প্রাকৃতিক বৈরিতার মাঝেও এই জেলার মানুষ দেশের খাদ্যভান্ডার সমৃদ্ধ রাখতে বছরজুড়ে সংগ্রাম করে। তবুও উন্নয়ন–বঞ্চনার দীর্ঘশ্বাস এখনও ঘিরে রেখেছে জেলার অধিকাংশ মানুষের জীবন–বাস্তবতা।
হাওরাঞ্চলের মানুষের প্রধান দাবি—টেকসই ফসলরক্ষা বাঁধ, নদী–নালা পুনঃখনন, আধুনিক সেচব্যবস্থা, মানসম্মত শিক্ষা, পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা ও স্থায়ী কর্মসংস্থান। কিন্তু এসব খাতের উন্নয়ন এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ জনসাধারণের। তাদের মতে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সুনামগঞ্জের প্রতিনিধিত্বের ঘাটতির কারণেই স্থানীয় সমস্যাগুলো বহু বছর ধরে গুরুত্ব পাচ্ছে না।
এই প্রেক্ষাপটে সুনামগঞ্জের সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর আরও সরব। তারা বলছেন—হাওরবাসীর জীবনযাত্রার কঠিন বাস্তবতা, নদী–বাঁধ–বন্যার চক্রাবর্ত ও কৃষিজীবী মানুষের সংকটগুলো যিনি বোঝেন, তিনিই জেলার প্রকৃত উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করতে পারবেন। সেই কারণেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষ, কৃষক, হাওরাঞ্চলের জেলে, প্রান্তিক পরিবার, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে তরুণ সমাজ—সবাই এক সুরে দাবি তুলেছেন:
সুনামগঞ্জ থেকে একজন যোগ্য ও দূরদর্শী ব্যক্তিকে মন্ত্রী করা জরুরি। এই দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক। জেলার মানুষের ভাষ্য—মিলন তাদের আশা–আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। হাওরবাসীর দুঃখ–দুর্দশা, কৃষকের ক্ষতি, অবকাঠামোগত দুর্যোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা—এসব বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সরাসরি মাঠ–পর্যায়ের কাজের কারণে জেলাবাসী বিশ্বাস করেন, জেলা থেকে তাকে মন্ত্রী হিসেবে পাওয়া গেলে সুনামগঞ্জের উন্নয়ন নতুন গতি পাবে।
জনমত বলছে, সুনামগঞ্জ শুধু একটি জেলা নয়; এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। অথচ জাতীয় অর্থনীতিতে এত বড় অবদান রাখার পরও দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জ প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। কৃষকের ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণের সঠিক মূল্যায়ন হয় না, দূরদুরান্তের বিদ্যুতবঞ্চিত ও দুর্গম এলাকাগুলোতে আধুনিক নাগরিক সুবিধা পৌঁছায় না, বর্ষা এলে সড়ক–যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এই অবস্থায় হাওরবাসীর দাবি—তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সুনামগঞ্জকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শক্তভাবে উপস্থাপন করতে হবে। আর সে দায়িত্ব পালনে মিলনই উপযুক্ত ব্যক্তি—এমনটাই মনে করেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
তাদের দাবি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত আবেদন—সুনামগঞ্জের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং হাওরবাসীর ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করতে চারবারের এমপি মিলনকে মন্ত্রী করা হোক। জেলার প্রান্তিক মানুষ আজ আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করছে—কবে সুনামগঞ্জের কণ্ঠস্বর দেশের নীতিনির্ধারণী টেবিলে সরাসরি প্রতিফলিত হবে।
