সঞ্জু রায়, বগুড়া:
প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জ ও বগুড়াকে আলাদাভাবে দেখতে চান না। গোপালগঞ্জের কি কি উন্নয়ন বাকি রয়েছে তা পরিপূর্ণ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইতিমধ্যেই ১৭’শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরকার দেশের সব অঞ্চলের সমান উন্নয়নে বিশ্বাসী। তাই বগুড়ার উন্নয়নেও একবিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, বট ও গুপ্ত শুধু জামায়াত-শিবির কিংবা আওয়ামী লীগে নয়, বিএনপিতেও আছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ প্রতিদিনের আয়োজনে ও টিএমএসএস এর সহযোগিতায় পাঁচতারকা হোটেল মমইন এ বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
এছাড়াও দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের দুর্গোৎসবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে তিনটি অঞ্চলে দুর্গাপূজা পরিদর্শনে গেছেন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। বিগত নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন। সেই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে সারা দেশে ১ হাজার ২০০টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসনও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেছে।
বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ উত্তরবঙ্গের মানুষের সাথে উন্নয়নের নামে ধোঁকাবাজি করেছে। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস তারপরেও সারাদেশে সম উন্নয়ন সাধনে এই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন,
বগুড়া একটি কৃষি ও খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা। বগুড়ার জন্য অতিরিক্ত কিছু চাওয়া হচ্ছে না; বরং বিগত সময়ে যে উন্নয়ন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে চাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, গত ২০ বছর বগুড়ার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফখরুদ্দীন-মঈন উদ্দিনের সরকারও ছিল ভয়াবহ। বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ, বিমানবন্দর, সিটি করপোরেশন, স্পোর্টস ভিলেজ, সড়ক উন্নয়ন, পৌরসভার উন্নয়ন, বগুড়া ওয়াসা এবং বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে রানওয়ে সম্প্রসারণের মাধ্যমে আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারি মাস থেকেই বগুড়া থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল চালুর কথা ভাবলেও বগুড়ায় একেবারে বহুমাত্রিক বিমানবন্দর চালুর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বগুড়া সিটি কর্পোরেশনে ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বগুড়ায় ওয়াসা গঠনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। বগুড়া শহরের যানজট নিরসন ও সৌন্দর্য্যবর্ধনের লক্ষ্যে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, নিয়ে আসা হচ্ছে মাস্টারপ্লানের আওতায়। এছাড়াও কাটাখালি থেকে ৪ কিলোমিটার এলাকায় করতোয়া নদী খনন ও পুন:খননের লক্ষ্যে ১ হাজার ৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলার ধুনট ও সারিয়াকান্দি উপজেলায় বন্যার ক্ষতি মোকাবেলায় নদীকেন্দ্রিক উন্নয়নে ১ হাজার ৫৬২ কোটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে বিএনপি সরকার প্রচারে বিশ্বাসী নয় এই সরকার কাজের মাধ্যমে জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে চায়। এ সময় বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাকস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করেছে তাই বলে ঠুনকো বিষয়ে যখন তখন অ্যাটাক করবেন সেটি মেনে নেয়া যায়না। বিগত সময়ে যেকোনো অভিযোগের বিষয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সেগুলো মোকাবেলা করার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ভন্ডামি আন্দোলন না করে বগুড়ার প্রকৃত উন্নয়ন সাধনে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। গত ১৭ বছর বগুড়ার কোন উন্নতি না হলেও অবনতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে ১৭ বছর অযত্ন ও অবহেলার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত করে রাখা হয়েছিলো। এখন সময় এসেছে উন্নয়ন করার যা সকলকে মিলে করতে হবে। বগুড়ার উন্নয়নে সকল এমপিগণের ভূমিকা রয়েছে তাই তাদের কথা বলতে হবে এবং ভূমিকা রাখতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থে কাজ না করে জনগণের জন্য কাজ করলে সকলে মনে রাখবে। এসময় আক্ষেপ করে তিনি বলেন, শারদীয় দূর্গাপূজায় সারাদেশে কোথাও চুল পরিমাণ বিশৃঙ্খলা ঘটেনি অথচ সেটি গণমাধ্যম সেভাবে প্রচার করেনি। ভুল সংবাদ প্রচার না করে গণমাধ্যমকে সত্য লেখার আহ্বান জানিয়ে রুমন বলেন বিগত সরকারের মতো বাহবা দরকার নেই কিন্তু সকল গণমাধ্যম সত্য প্রচার করলেই তা অবশ্যই সরকারের নজরে আসবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এ্যাড. এ কে এম মাহবুবর রহমান, বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া ৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা: মওদুদ আলমগীর পাভেল, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, টিএমএসএস এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বেগম প্রমুখ।
