খালেদ আহমেদ :
পাবনা শহরের ইয়াকুব প্লাজার ‘জি-এক্স এরিনা’ গেমিং সেন্টারে স্কুল চলাকালে শিক্ষার্থীদের গেম খেলতে যাওয়া এবং ডিবি পুলিশের অভিযানে ১০ শিক্ষার্থী আটকের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা। শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ, শিক্ষাজীবন ও নৈতিক অবক্ষয়ের আশঙ্কা তুলে ধরে গেমিং সেন্টারটি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে, পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানিয়েছেন, তার জানামতে এ ধরনের গেমিং সেন্টারের কোনো বৈধতা নেই। অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাবনা জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি মোজাম্মেল হক কবির বলেন, শহরের শিশু-কিশোররা গেমের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে গেমিং সেন্টারে যাচ্ছে। প্রশ্ন হলো, অল্প বয়সী শিক্ষার্থীরা এত টাকা কোথায় পাচ্ছে? টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তারা অসৎ পথে, এমনকি চুরির মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়তে পারে। একপর্যায়ে গেমে আসক্ত হয়ে তাদের লেখাপড়া ও শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে একদিকে অর্থের অপচয়, অন্যদিকে আসক্তির কারণে ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, শুধু তাস খেললেই জুয়া হয় না; টাকার বিনিময়ে খেলা হলে সেটিও জুয়ার পর্যায়ে পড়ে কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ ধরনের গেমিং সেন্টার দ্রুত সিলগালা করার দাবি জানিয়ে তিনি শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এ ব্যবসা থেকে সরে আসতে প্রতিষ্ঠানের মালিকের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ পল্লী চিকিৎসক সমিতি, পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাবু বলেন, গেমিং সেন্টারে খেলতে আসা শিশু-কিশোরদের অনেকেই নাবালক। স্কুল ও কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে তারা সেখানে প্রবেশ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড তাদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি গেমিং ব্যবসা ছেড়ে মানবকল্যাণমূলক ব্যবসায় যুক্ত হতে প্রতিষ্ঠানের মালিকের প্রতি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, “আমার জানামতে, এদের কোনো বৈধতা নেই। ইতোমধ্যে একটি অবৈধ গেমিং সেন্টারে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। সেখান থেকে খেলতে আসা ১০ শিক্ষার্থীকে আটক করে তাদের অভিভাবকদের ডেকে প্রাথমিকভাবে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এসব অবৈধ গেমিং সেন্টার বন্ধ করতে আমাদের যা যা করণীয়, তা করব।”
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাবনা শহরের ইয়াকুব প্লাজার ‘জি-এক্স এরিনা’ গেমিং সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ১০ শিক্ষার্থীকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। পরে অভিভাবকদের মুচলেকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। গত ৪ অক্টোবর চালু হওয়া প্রতিষ্ঠানটিতে ৩০০ টাকায় দুই ঘণ্টা এবং ১ হাজার ২০০ টাকায় সারাদিন গেম খেলার সুযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
শিক্ষার্থীদের স্কুল ফাঁকি দিয়ে গেমিং সেন্টারে যাওয়া, অল্প বয়সে অর্থ ব্যয় করে দীর্ঘ সময় গেম খেলা এবং তাদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা ও কার্যক্রম খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।
