বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ভিপি শাহীনসহ ৪ নেতা গ্রেপ্তার, আদালতে ডিম নিক্ষেপ

স্টাফ রিপোর্টার:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একাধিক মামলার আসামি বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান শাহীন ওরফে ভিপি শাহীনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাদের আদালতে হাজির করা হলে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গ্রেপ্তার চারজনকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে তাদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। পরে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করলে আদালত চারজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন, বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহসভাপতি সৈয়দ আবু জাফর সিদ্দিক রিপন, শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাব্বির হোসেন নির্জন ওরফে ভাদু এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. ফেরদৌস হোসেন।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার সদর থানার কলাতলী বিচ এলাকার একটি রিসোর্ট ও এর আশপাশে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে মঙ্গলবার বিকেলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করে বিস্তারিত জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান। তিনি জানান, সাজেদুর রহমান শাহীন বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র, বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১১টির বেশি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া সৈয়দ আবু জাফর সিদ্দিক রিপন (৬০) বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাব্বির হোসেন নির্জন ওরফে ভাদু (২৯) শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মো. ফেরদৌস হোসেন (২৬) স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ভাদুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও বিস্ফোরক আইনে ৯টির বেশি মামলা রয়েছে। আর ফেরদৌস হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার বলেন, সাজেদুর রহমান শাহীন কক্সবাজারে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও রিমান্ডে তাদের থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে মর্মে প্রত্যাশা এই কর্মকর্তার।