জসীমউদ্দিন ইতি, (ঠাকুরগাঁও)
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় সাধারণত আশ্বিন ও কার্তিক মাসকে ‘মঙ্গা’ বা অভাবের মাস হিসেবে গণ্য করা হয়। বছরের এই সময়টিতে কৃষকদের মাঠে তেমন কোনো ফসল বা কাজ থাকে না। দিনমজুর থেকে শুরু করে সাধারণ কৃষক—সবারই পকেটে টান পড়ে, চলে ধারদেনা করে দিনযাপন। তবে এবছর সেই চিরাচরিত চিত্রে এসেছে এক ব্যতিক্রমী পরিবর্তন।
উপজেলা কৃষি অফিসের সময়োপযোগী পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় এবার হরিপুরের কৃষকরা হাইব্রিড ধান চাষে ঝুঁকেছেন এবং পেয়েছেন অভাবনীয় সাফল্য। এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম জানান, এবার হরিপুর উপজেলায় মোট ২১১০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান চাষ করা হয়েছে।
ডাঙ্গিপাড়া ইউনিয়নের কৃষক কালাম আজাদ আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, আমি এবার উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে ১ একর ১৫ শতাংশ জমিতে হাইব্রিড ধান চাষ করেছি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই ধান ঘরে তুলতে পারব এবং এর মাধ্যমে আমার অভাব অনেকটাই পূরণ হবে।
আমগাঁও ইউনিয়নের কৃষক মাজেদুর ও রফিক তাদের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমরা একদিন হরিপুর উপজেলা চত্বরে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখি উপজেলা কৃষি অফিসার কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলছেন এবং তাদেরকে স্বল্প সময়ে হাইব্রিড ধান চাষ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। স্যারের সেই পরামর্শ শুনেই আমরা হাইব্রিড ধান চাষ করি এবং এতে বেশ সাফল্য পেয়েছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে ইনশাআল্লাহ আগামী সপ্তাহেই আমরা ধান ঘরে তুলতে পারব।
কৃষকদের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের বলেন, বর্তমান কৃষি অফিসারের দিকনির্দেশনায় কৃষকরা সঠিকভাবে সার, বীজ ও ফসল উৎপাদন করতে পেরেছেন। কৃষি অফিসের এমন কার্যকর পরামর্শ হরিপুরে অসময়ে ফসল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়েছেন এবং মানুষের অভাব অনেকটাই দূর করবে।
বিষয়টি নিয়ে হরিপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান বলেন, বর্তমান কৃষি অফিসারের উদ্যোগে অসময়ে কৃষকের ঘরে ফসল তোলা অত্যন্ত আনন্দের একটি বিষয়। এই ফসল সামনের দিনে কৃষকদের আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে বড় ধরনের সহায়তা করবে। এজন্য আমি হরিপুর উপজেলা কৃষি অফিসকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চন্দন কর হরিপুর উপজেলা কৃষি অফিসারের কাজের প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান কৃষি অফিসার একজন সুদক্ষ কৃষিবিদ। তাঁর দিকনির্দেশনায় হরিপুর উপজেলায় ফসলের রোগ দমন, সঠিক সময়ে ফসল চাষ ও তা ঘরে তোলার ক্ষেত্রে দারুণ অগ্রগতি হয়েছে। তিনি সবসময় কৃষকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রেখে নিবিড় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য আমি উপজেলা কৃষি অফিসারকে ধন্যবাদ জানাই।
বর্তমানে মাঠের পর মাঠ জুড়ে সোনালী ধানের শীষে পাকা রঙের ছোঁয়া লেগেছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কৃষকরা তাদের কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বালা-মুসিবত না ঘটলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।
অভাবের এই দুর্দিনে ক্ষেতের ধান পেকে ওঠার আনন্দে মহাখুশি হরিপুরের কৃষকরা। একই সাথে এই সফলতার পেছনে অনুপ্রেরণা ও সঠিক পরামর্শ দেওয়ার জন্য তারা উপজেলা কৃষি অফিসকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
