হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার ১৩ নং শ্রীপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ধর্মপুর গ্রামের মৃত আবু বক্কর মন্ডলের ছেলে মোঃ মাহাফুজার রহমান থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে সাইদুর ইসলাম, মেহেদী হাসান, মোবাশের, মূল্য মিয়া ও মনোয়ারা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমি-জায়গা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে বাদীপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে মাহাফুজার রহমানের বসতবাড়ির উঠানে এসে গালিগালাজ করেন। বাধা দিলে তাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে ট্রাক্টর দিয়ে ধাক্কা দিয়ে মাহাফুজারকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় তার ছোট ভাই মিলন, চাচাতো ভাই রাজু ও ভাবি শিল্পী বেগম এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
এজাহারে দাবি করা হয়েছে, হামলাকারীদের আঘাতে মিলন ও রাজুর মাথায় গুরুতর জখম হয়। রাজু আঘাত প্রতিহত করতে গিয়ে হাতেও আহত হন। এছাড়া শিল্পী বেগমের মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হয়েছে।
শিল্পী বেগমের গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন বাদী। একইসঙ্গে তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির করা হয়েছে।
এ সময় তাদের চিৎকারে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। হামলায় রেজাউল, আশরাফুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম আহত হয়েছে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
আহতদের স্থানীয়দের সহযোগিতায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।!
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, এ ঘটনায় থানায় এজাহার পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
