দীর্ঘ ৩ বছর ২ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান এর সন্ধান মেলেনি

অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার অবসান চায় পরিবার
মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের সুরিখাল গ্রামের বাসিন্দা ও মৌলভীবাজারের শিক্ষানবিশ আইনজীবী মো. মিজানুর রহমান নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ৩ বছর ২ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ হওয়ার সময় তিনি ইংল্যান্ড যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য ইংল্যান্ড অ্যাম্বাসি থেকে ই-মেইলও পেয়েছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।কিন্তু পাসপোর্ট সংগ্রহের নির্ধারিত সময়ের আগের দিন সকালে মৌলভীবাজারে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় পার হলেও তাঁর অবস্থান কিংবা নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। একজন তরুণ আইনজীবী বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কীভাবে বছরের পর বছর নিখোঁজ থাকতে পারেন ? তিনি কার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, কোথায় গিয়েছিলেন এবং এরপর তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল এসব প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজনগর উপজেলার সুরিখাল গ্রামের ছেলে মো. মিজানুর রহমান একজন শিক্ষানবিশ আইনজারি ছিলেন। তিনি ২০২০ সালে সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, তিনি সম্প্রতি ইংল্যান্ড যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও ভিসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করছিলেন। ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁর পাসপোর্ট ইংল্যান্ড অ্যাম্বাসিতে জমা দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবার জানায়। পরে পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য অ্যাম্বাসি থেকে তাঁকে ই-মেইল পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, নির্ধারিত দিনে তাঁর ইংল্যান্ড অ্যাম্বাসি থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করার কথা ছিল। কিন্তু এর আগের দিন সকালে মৌলভীবাজারে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৪৭১, তারিখ : ১০/০৭/২০২৩ইং) করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে তাঁর সন্ধানের জন্য আবেদন ও যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। নিখোঁজ সংক্রান্ত প্রাপ্ত নথিপত্রেও বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তৎকালীন সময়ে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তাঁর খোঁজ করলেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের ঘটনার পর থেকেই পরিবারে চরম উদ্বেগ ও শঙ্কা দেখা দেয়। কিন্তু দিন গড়িয়ে মাস এবং মাস গড়িয়ে বছর পার হলেও সেই উদ্বেগ আজও কাটেনি। দীর্ঘ এই সময়ে পরিবারের সদস্যদের জীবন যেন থমকে আছে। প্রতিটি ফোনকল, অচেনা কোনো খবর কিংবা দরজায় কারও উপস্থিতি সবকিছুর মধ্যেই তাঁরা প্রিয় মানুষটির ফিরে আসার সম্ভাবনা খোঁজেন। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে সেই অপেক্ষার অবসান হয়নি। স্বজনরা জানান, নিখোঁজ হওয়ার সময় মিজানুর রহমানের সামনে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি এবং নতুন জীবনের পরিকল্পনা ছিল। ইংল্যান্ড যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পাসপোর্ট সংগ্রহের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় তাঁর এমন রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়া পরিবারের কাছে আরও বেশি প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা ঘটনাটি নতুন করে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হোক। নিখোঁজের সময়কার মোবাইল ফোনের তথ্য, যোগাযোগের সূত্র, তিনি যাদের সঙ্গে দেখা করার কথা বলেছিলেন এবং সে সময়ের সম্ভাব্য সব তথ্য-উপাত্ত পুনরায় যাচাই করে কার্যকর তদন্ত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পরিবারের পক্ষ থেকে রাজনগর থানা পুলিশ, মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তি ও সব ধরনের অনুসন্ধানী সক্ষমতা ব্যবহার করে তার সন্ধান এবং নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে। দীর্ঘ ৩ বছর ২ মাস পরও পরিবারের একটাই প্রশ্ন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান কোথায় ? একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের কান্না, অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার অবসান ঘটুক এটাই এখন স্বজনদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। তাঁকে জীবিত অথবা তাঁর নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে অন্তত একটি সুস্পষ্ট উত্তর জানতে চায় পরিবার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক চৌধুরী জানান- পুরাতন বিষয়। খবর নিয়ে জানতে হবে।