বড়াইগ্রাম ইউপি থেকে চুরি হওয়া ল্যাপটপ ১৫ দিনেও উদ্ধার হয়নি

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে রহস্যজনকভাবে চুরি হওয়া দুটি ল্যাপটপ ১৫ দিনেও উদ্ধার হয়নি। দীর্ঘদিন থেকে দায়িত্বপালন করা সচিবের অবসর গ্রহণ ও নতুন সচিব দায়িত্বগ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ে সুরক্ষিত কার্যালয় থেকে সরকারি ল্যাপটপ চুরি এবং দীর্ঘ সময় পরেও তা উদ্ধার না হওয়ায় মানুষের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, গত দুই আগষ্ট রাতে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের ব্যবহৃত একটি এবং তথ্য উদ্যোক্তার ব্যবহৃত একটি সরকারি ল্যাপটপ চুরি হয়। রুটিন অনুযায়ী ওই রাতে গ্রাম পুলিশ মোবারক ও আলাল হোসেনের দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও গ্রাম পুলিশ বেলাল হোসেন দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দুটি কক্ষের তালা ভেঙ্গে চুরির ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে গ্রাম পুলিশ বেলাল হোসেন জানান, সেদিন অন্য দুজন গ্রাম পুলিশ অসুস্থ থাকায় আমি দায়িত্বে ছিলাম। তবে পরদিন হাটে বিক্রি করার জন্য রাত আড়াইটার দিকে আমি রসুন মাপার জন্য বাড়িতে চলে যাই। পরে সকালে শুনি যে, পরিষদে নাকি চুরি হয়েছে।
মানিকপুর এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৪-৫ জন যুবক জানান, সরকারি কার্যালয়ের অন্যান্য মালামাল অক্ষত থাকলেও শুধু সচিব ও তথ্য উদ্যোক্তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ দুটি চুরি হওয়াটি রহস্যজনক। তাছাড়া পাহারার দায়িত্বে থাকা গ্রাম পুলিশের মধ্য রাতে বাড়ি চলে যাওয়াটাও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম মীর বলেন, যেহেত সচিব ব্যবহার করতেন, সেহেতু ল্যাপটপগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তথ্য থাকাই স্বাভাবিক। এটা আসলেই চুরি নাকি কোন গোপনীয় নথি সরিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে পরিষদ সংশ্লিষ্ট কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।
ইউপি চেয়ারম্যান মমিন আলী বলেন, বিষয়টি দু:খজনক। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে ল্যাপটপ উদ্ধারসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।