সুন্দরগঞ্জের জিল্লুর বিরুদ্ধে চাকরি ও সরকারি ভাতা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ

হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের ফরজান আলীর ছেলে মো. জাহিদ হাসান জিল্লুর বিরুদ্ধে চাকরি পাইয়ে দেওয়া, সরকারি ভাতা ও সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্ধশতাধিক পরিবারকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত জাহিদ হাসান জিল্লু এলাকার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উপজেলার বেকার যুবক, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং অসহায় পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি, বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড এবং সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করেন। অনেকের হাতে কথিত নিয়োগপত্রও তুলে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় একটি মসজিদের দানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময় পার হলেও প্রতিশ্রুত চাকরি বা সুবিধা না পেয়ে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত তাদের ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি দিয়ে আসছেন।

দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের সুফিয়া বেগম জানান, সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে জাহিদ হাসান জিল্লু তাঁর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেন। কিন্তু ঘর তো পানইনি, বরং টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান মিয়া অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে মাজহারুলকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত প্রায় ১৭ লাখ টাকা নেন এবং একটি কথিত নিয়োগপত্র দেন। পরে যাচাই-বাছাই করে সেটি ভুয়া বলে জানা যায়। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও তিনি টাকা ফেরত পাননি।

ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোখলেছুর রহমান মণ্ডল বলেন, সম্প্রতি জাহিদ হাসান জিল্লুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশও হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিডিএমএসের মাধ্যমে প্রাপ্ত পিসিপিআর তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, মো. জাহিদ হাসান জিল্লুর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টসহ প্রায় এক ডজন মামলা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ তথ্যের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদকের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, প্রতারণার অভিযোগে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ইতোমধ্যে ধোপাডাঙ্গা বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এবং পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মো. জাহিদ হাসান জিল্লুর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।