মোঃ নূরুল ইসলাম, চাটমোহর (পাবনা)
চাটমোহর উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে উপজেলার আত্রাই নদী, ছাওয়াল দহ জলমহল, কাঁটা গাং নদী, হান্ডিয়াল ইউনিয়নের ভাঙ্গা ব্রিজ সংলগ্ন নলুয়া বিল, নবীন ও চর নবীন এলাকায় মৎস্য ও জলজ প্রাণী সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৫০ পিস চায়না দুয়ারী জাল আটক করা হয়। পরে জনসম্মুক্ষে এসকল জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরী এ মোবাইল কোট পরিচালনা করেন। চাটমোহর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আহসানুল হাবিব, চাটমোহর থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন
চাটমোহর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মতিন জানান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য দপ্তর চাটমোহর এর আয়োজনে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখতে বিগত বছরের ন্যায় এ বছরও চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন নদী ও বিলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রায় ৫০ টি চায়না দুয়ারী জাল আটক করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য দেড় লক্ষ টাকা।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরী জানান, চায়না দুয়ারী জালের ফলে দেশের মৎস্য সম্পদ ও জলজ প্রাণীর ব্যাপকভাবে ক্ষতি হচ্ছে। এ সকল জালে মাছ, পোনা মাছ, কাকড়া, জলজ কীটপতঙ্গ, সাপ, ব্যাঙ, পাখিসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পরে। একশ্রেণীর অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা এ সকল জাল ক্রয় করে সাধারণ জেলে ও শ্রমজীবীদের মৎস্য শিকারে দিন হাজিরা ভিত্তিতে নিয়োগ করেন। এ সকল জাল পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করলেও সচেতনতার অভাবে প্রতিবছর সাধারণ মানুষ এই জাল ব্যবহার করে আসছে। এই জাল ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে দেশের নদীনালা ও খালবিলে মাছের ব্যাপক সংকট দেখা দেবে। তাই জনসাধারণকে চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।
