ওসমান গনি. বেড়া (পাবনা) :;
মাদক ও অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবায় জর্জরিত পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নাদী বেষ্টিত বিভিন্ন চরাঞ্চল। এক সময় উপজেলার অন্যান্য এলাকার তুলনায় চরের জনপদগুলো শান্তিপূর্ণ ও সামাজিকভাবে অধিকতর স্থিতিশীল হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি চরাঞ্চল ঘুরে এবং স্থানীয় অনেকের সাথে কথা বলে ভিন্ন এক চিত্র উঠে এসেছে। তারা বলেন উপজেলার অন্যান্য এলাকার মতো চরাঞ্চলেও মাদক এবং অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেক জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেকেরই অভিযোগ, মাদকের প্রভাবে এলাকায় চুরি ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে এবং অনেক পরিবার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। জানা যায়, হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চল, চর নাকালিয়া, চর পেচাকোলা, চর সাড়াশিয়া, হাটাইল আড়ালিয়া, চর নাগদাহ সহ বিভিন্ন চর এলাকার নেতৃত্ব দেওয়া প্রভাবশালী পরিবারের কিছু তরুণও এই মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। যার ফলে সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। এ কারনে অভিভাবকদের মধ্যে নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে গভীর উদ্বেক বিরাজ করছে। চরাঞ্চলের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এসব চরাঞ্চলে মাদক বিভিন্ন পথে প্রবেশ করছে বলে তারা শুনে থাকেন। সূত্রটি জানায়, মাদকের রুট হিসেবে পরিচিত নাকালিয়া বাজার খেয়া ঘাট, নেওলাইপাড়া খেয়া ঘাট এবং নগর বাড়ি খেয়াঘাট সহ কয়েকটি রুটে এবং অন্যটি পাশের মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল দিয়ে প্রবেশ ঘটে বলে জানা যায়। তবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় নি। এ বিষয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী বংশের একজন প্রতিনিধির সাথে কথা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, এলাকার কিছু তরুণ মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অনেক পরিবার নিজ উদ্যোগে তাদের সন্তানদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। চরাঞ্চলের অনেক সচেতন মানুষ বলেন আমরা সামাজিকভাবে মাদক প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি যেমন, মসজিদ ও মাদ্রাসায় ইমামগণ খুতবার আলোচনায় মাদকের কুফল তুলে ধরছেন। স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে মাদক বিরোধী কমিটিও গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়টি স্থানীয় প্রশাশনকে অবহিত করা হয়েছে। সরেজমিনে বিভিন্ন চরের সচেতন ব্যক্তির কাছে মাদক প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধ করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন। তারা আরও বলেন, তরুণ সমাজকে এই ভয়াবহ আসক্তি থেকে রক্ষা করতে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং মাদক ও অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বেড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) নয়ন কুমার সরকার মুঠো ফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন ,চরাঞ্চলেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে । কয়েক দিন আগেও ওয়ারেন্ট ভুক্ত এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করার জন্য আমরা সরেজমিনে গিয়েছিলাম।কোনোভাবেই চর এলাকায় যেন মাদক পাচার না হতে পারে সেজন্য উপজেলার প্রতিটি নৌঘাট রুটে প্রতিনিয়ত নজরদারি চলছে। মাদক মুক্ত এলাকা গড়তে শুধু প্রশাসনের তৎপরতাই যথেষ্ট নয়।এর জন্য সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
