এবাদত আলী
পাবনা জেলার সর্বকনিষ্ঠ পৌরসভা আটঘরিয়া। জেলার অন্যান্য পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হলেও আদালতে মামলা থাকায় অবশেষে এই পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ধার্য হয় ১২জুন/২০১১। সাংবাদিক হিসেবে তাই নির্বাচন পর্যবেক্ষনের জন্য আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও রির্টানিং অফিসার সৈয়দ রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি পৌরসভা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য সাংবাদিকদেরকে অনুমতিপত্র প্রদান করেন ১১জুন তারিখে। সেইসাথে আমার প্রাইভেট কারেরও অনুমতি স্টিকার মেলে।
১২জুন সকাল বেলা ড্রাইভার সেলিমকে নিয়ে আমার টেবুনিয়ার বাসা থেকে বের হয়ে টেবুনিয়া বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে সাংবাদিক বন্ধু দৈনিক চাঁদনীবাজার পাবনা ব্যুরো পরিচালক এইচকেএম আবুবকর সিদ্দিককে সাথে নিয়ে রওনা হই। টেবুনিয়া-ছাইকোলা রোড ধরে কিছুদুর যাবার পর আটঘরিয়ার প্রাণকেন্দ্র দেবোত্তরে পৌঁছলে সাপ্তাহিক দেশবিবরণ পত্রিকার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার মিয়া ও আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক আজকালের পাবনা অফিস প্রধান খাইরুল ইসলাম বাসিদকে নিয়ে পৌরসভার ভোটকেন্দ্র গুলো পর্যবেক্ষণের জন্য এক সঙ্গে রওনা হই। এমন সময় খবর আসে যে, আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন বাবুকে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ভ্রাম্যমান আদালত ১৫ দিনের জেল দিয়েছে এবং তাকে পাবনা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মোফাজ্জল নাকি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গের চেষ্টা করছিলেন। তাই ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আরা রিনি তাকে ১৫ দিনের জেল ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের জেল দেন।
যাক আমরা দেবোত্তর ডিগ্রি কলেজ ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হলাম। কলেজ কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৭শ৫৮জন বলে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আরএমও ডা. কেএম আব্দুল্লা আল মামুদ জানালেন। তখন বেলা বেশ খানিকটা বেড়েছে। জ্যৈাষ্ঠের ভ্যাপসা গরম
ও প্রচন্ড খরতাপের মধ্যেই পুরুষ ও মহিলা ভোটাররা স্বতস্ফুর্তভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদানের জন্য অপেক্ষা করছেন। দেবোত্তর ও চাঁদভা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিভক্ত হয়ে পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০০৬ সালের ২০ জুলাই আটঘরিয়া পৌরসভা ঘোষিত হলেও এযাবত কোন নির্বাচন হয়নি । হয়তো বা সেকারনেই পৌরসভার নতুন ভোটার হিসাবে ভোট দিতে এসে ভোটারগণ রোমাঞ্চ অনুভব করছেন।
এই প্রথমবারে আটঘরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৫জন প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। তারা হলেন বর্তমান পৌর প্রশাসক মো: আমিনুল হক (আনারস), মো: আব্দুল মজিদ (মাইক), আব্দুল কুদ্দুছ মোল্লা (দোয়াত কলম), ডালেম মোল্লা (তালা) এবং শহিদুল ইসলাম রতন (দেয়াল ঘড়ি)। এছাড়া নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী হিসাবে ১৫ জন মহিলা এবং কাউন্সিলর রয়েছেন ৪১জন। এদের মধ্যে ৭নং ওয়ার্ডে আনোয়ারুল ইসলাম ও ৮নং ওয়ার্ডে মোফাজ্জল হোসেন বাবু নামে ২জন সাংবদিক কাউন্সিলর প্রার্থী ও রয়েছেন। আটঘরিয়া পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৯হাজার ৯৫জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৯টি।
আমরা এরপর পার্শ¦বর্তী দেবোত্তর পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপস্থিত হলাম। এখানে প্রজাাইডিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন আটঘরিয়া উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনেসট্রাাক্টর কামরুল হাসান। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৯শ২৬জন। এখানেও ভোটারদের লম্বা লাইন চোখে পড়লো। কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে কিছুদুর যাবার পরই আটঘরিয়া প্রেসক্লাব। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমি। প্রাণের টানেই তাই প্রেসক্লাবে ঢুঁ মারতে হলো। প্রেসক্লাবে পোঁছতেই বর্তমান সভাপতি আবদুস সামাদ আজাদসহ অনেকের সঙ্গেই কুশল বিনিময় হলো। সেখান থেকে পায়ে হেটে দেবাত্তর কবি বন্দে আলী মিয়া ভোট কেন্দ্রে পৌছলাম। এই কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক আটঘরিয়া শাখার ম্যানেজার মো: ইউনুছ আলী। এই কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা মোট ১হাজার ৩শ৬৬জন। এর মধ্যে ৪০% ভাগ ভোট প্রদান করা হয়েছে বলে প্রিজাইডিং অফিসার জানালেন। আমরা এবার রওনা হলাম ধলেশ্বর ভোটকেন্দ্রের দিকে। উপজেলা পরিষদ থেকে সামান্য উত্তর দিকে গিয়ে আব্বাস খাঁর ঢাল। এখান থেকে পুর্ব দিকে একটি হেরিংবন বন্ডের নতুন রাস্তাদিয়ে কিছু দুর যেতেই পাওয়া গেল ধলেশ্বর দাখিল মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন আটঘরিয়া কৃষি সম্প্রারণ অফিসার নাজিমুদ্দিন। তিনি আমাদের দিকে এগিয়ে এলেন। তার সাথে এলেন এসআই নাজমুল। পুলিশ, আনসার ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশসহ কেন্দ্রের আইন শৃংখলা রক্ষার জন্য রয়েছে মোট ২০ জন সদস্য। এসআই নাজমুল এসেছেন সুজানগর থানা থেকে। তাঁর বাড়ি নওগাঁ জেলায়। ধলেশ্বর দাখিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৮শ২৯জন। এখানে ভোট দিতে লাইনে দাঁড়ানো সরেজান বিবিকে জিজ্ঞাসা করলাম কিসের ভোট দিতে এসেছেন? তিনি বললেন চিয়ারম্যানি ভোট। সাদাসিধে এই মহিলা ভোটার পৌরসভা কাকে বলে এবং পৌরসভার মেয়র কি তা জানেননা বলেই মনে হলো। এমনিভাবে কয়েকজন ভোটারকে জিজ্ঞাসা করে একই জবাব পাওয়া গেল।
(ক্রমশঃ) (লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট )।
এবাদত আলী
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
আটঘরিয়া প্রেসক্লাব ও
সদস্য পাবনা প্রেসক্লাব।
তারিখ: ১৫ / ০৬ /২০২৬.
