পাবনায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, দগ্ধ ৩ জনের মৃত্যু

আর কে আকাশ, পাবনা : পাবনা সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দুইজন এবং সোমবার বিকালে একই হাসপাতালে অন্যজনের মৃত্যু হয় বলে জানান পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম।
নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ (৩৫), পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির (২৮) এবং একই এলাকার প্রয়াত ইউসুফের ছেলে সাপু (৪৫)।
সবাই পেশায় দিনমজুর ও ঘটনার সময় আগুন নেভাতে এবং উৎসুক জনতা হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকালে সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে ১৫ বছরের এক কিশোরীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে কিশোরীর লাশ দাফন করা হয়।
দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই এ ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। আগুন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ির ভেতরে থাকা রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন দগ্ধ হন।
স্থানীয়রা দগ্ধদের উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেও শেষ রক্ষা হয়নি
তিনজনের।
অগ্নিসংযোগ, বিস্ফোরণ এবং মৃত্যুর ঘটনার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন ওসি তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘটনার সময় লোকলজ্জা ও গ্রেপ্তারের ভয়ে আসামিপক্ষের কোনও সদস্য বা আত্মীয়স্বজন বাড়িতে ছিলেন না। ফলে অগ্নিকা- ও বিস্ফোরণে যারা দগ্ধ হয়েছেন, তারা মূলত প্রতিবেশী কিংবা আগুন নেভাতে আসা জনতা।
পুলিশ জানায়, কিশোরীর লাশ উদ্ধারের আগের দিন রাতে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুর এলাকায় পদ্মা নদী পাড়ে একটি প্রাইভেটকারে চার যুবককে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। পরদিন সকালে নদী থেকে ওই কিশোরীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা ওই কিশোরীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানান ওসি তরিকুল ইসলাম।