ইয়ানূর রহমান : যশোরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী নিজের শরীরেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে। যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তী করেন।
নিহত ছামিনা আক্তার সদর উপজেলার তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সুজনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তবে তাঁরা ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকায়।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে নেশার টাকার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে ছামিনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর সুজন নিজের শরীরেও ছুরি দিয়ে একাধিক আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত ছামিনার মামা পিয়াস জানান, সুজন আগে বিদেশে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে তাঁরা বিয়ে করেন। সম্পর্কে তাঁরা মামাতো ভাই-বোন ছিলেন। বিয়ের পর আলাদা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে সুজন বেকার ছিলেন এবং আবার বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ছামিনার মৃত্যু হয়েছিল। সুজনের শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন ছামিনার স্বজনরা। এতে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় সুজনের বাবা ও মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আত্মীয়তার সম্পর্কের মধ্যে বিয়ে করে তাঁরা আলাদাভাবে বসবাস করতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।#
