হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধনে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, ফার্মাসিস্ট, টেকনোলজিস্টসহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, এটি দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্যও হুমকিস্বরূপ।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা বিনতে ফারুক, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সাইদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. ফজলুল হক সরকার এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স রেবা রাণী বসুনীয়া।
বক্তারা জানান, গত ২৯ মে বিকালে জরুরি বিভাগে এক শিশুর চিকিৎসা চলাকালে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রোগীর স্বজনরা আরও লোকজন ডেকে এনে হাসপাতালে হামলা চালায়। এ সময় জরুরি বিভাগে ভাঙচুর, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মারধর এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। হামলায় হাসপাতালের দুই কর্মচারী আহত হন এবং হাসপাতালে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
তারা আরও বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে জনগণকে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা বিনতে ফারুক বলেন, দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে বহির্বিভাগের সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে না। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ছাড়া চিকিৎসাসেবা প্রদান সম্ভব নয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা গত সোমবার থেকে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে কর্মসূচি পালন করছেন। ফলে সাধারণ রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ঘটনার বিষয়ে মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন।
