দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে অলস না রেখে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ইয়ানূর রহমান : যশোরের শার্শা উপজেলায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে ঐতিহাসিক ‘উলশী-যদুনাথপুর’ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গঠন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে অলস না রেখে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। জনগণের শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলেই দেশ এগিয়ে যাবে। বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তিলে তিলে রক্ত দিয়ে হলেও তা পালন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, অতীতে যারা দীর্ঘ সময় হরতাল-অবরোধের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল, তাদের সেই “অস্থিতিশীলতার রাজনীতি” আবারও অন্যভাবে ফিরে আসছে। কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী গণআন্দোলনের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তারেক রহমান দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

উলশী খালের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ৫০ বছর ধরে এই খাল ভরাট ও দখল হয়ে পড়ে ছিল। ৪ কিলোমিটার এই খাল পুনঃখননের ফলে ২০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে এবং প্রায় ১৪০০ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে। আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার ‘জিয়া খাল’ খননের মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হবে এবং মা-বোনেরা হাঁস পালন করে বাড়তি আয় করতে পারবেন।

নারীদের ক্ষমতায়নে বড় ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেয়েদের শিক্ষা এখন থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক করা হবে। নারী প্রধান পরিবারগুলোকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা সরাসরি দেওয়া হবে। রান্নার কষ্ট লাঘবে দেওয়া হবে বিশেষ এলপিজি কার্ড।

সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘ওয়াদা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের কাজ সরকার গঠনের ১০০ দিনের মধ্যেই শুরু হয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সরকারি সম্মানি ভাতার কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।’

৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এখন দেশ গড়ার পালা। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সব দল মিলে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি শব্দ আমরা বাস্তবায়ন করব।” বক্তব্যের শেষে তিনি নতুন স্লোগান দেন- ‘গড়বো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর যদি ৫০ বছরে বদলে যেতে পারে, তবে বাংলাদেশ কেন পারবে না? ১৯৭১ ও ২০২৪-এ এদেশের মানুষ অসাধ্য সাধন করেছে, এবারও দেশ গড়তে তারা সফল হবে। বাংলাদেশ সংবাদ

সমাবেশ শেষে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে উলসী খালের ওপর একটি আধুনিক ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।#