আবু ইসহাক সাঁথিয়া (পাবনা)★
আজ ১৯ এপ্রিল। পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক ডাববাগান যুদ্ধ দিবস। ১৯৭১ সালের ১৯ এপ্রিল পাক হানাদার বাহিনী উত্তর জনপদের ডাববাগান অর্থাৎ বর্তমান শহীদনগর পাইকরহাটী গ্রামে মুক্তিসেনাদের মুখোমুখি হয়। ওই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ইপিআর সুবেদার গাজী আলী আকবর (বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার শান্তিডাঙ্গা গ্রামে)। এ যুদ্ধে অংশ নেন বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর, পুলিশ বাহিনী, আনসার সদস্যসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা।
মুক্তিযোদ্ধারা জানান, একাত্তরের ১৯ এপ্রিল দুপুরে নগরবাড়ী ঘাট হয়ে এই রাস্তা দিয়ে পাকসেনারা বগুড়া যাবার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে মুক্তিসেনারা সাঁথিয়া উপজেলার পাইকরহাটী ডাববাগানে অবস্থান নেন। প্রথমত পাকসেনারা সম্মুখযুদ্ধে টিকতে না পেরে ব্যাপক ক্ষতি স্বীকার ও হতাহতের পর পিছু হটে নগরবাড়ী ফিরে যায়। যুদ্ধে প্রায় ৫০ জন পাকসেনা নিহত হয়। পরে পাকসেনারা শক্তিশালী হয়ে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন ইপিআর হাবিলদার মমতাজ আলী, হাবিলদার আব্দুর রাজ্জাক, নায়েক হাবিবুর রহমান, সিপাহী এমদাদুল হক, সিপাহী ঈমান আলী, সিপাহী রমজান আলীসহ আরও অনেক ইপিআর সদস্য। পাকবাহিনী ওই সকল শহীদ ইপিআর সদস্যদের দেহ এসিড ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছিলো।
সেদিন পাকসেনারা গ্রামবাসীর উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। একে একে পুঁড়িয়ে দেয় ডাববাগানের পার্শ্ববর্তী রামভদ্রবাটি, কোড়িয়াল, বড়গ্রাম, সাটিয়াকোলা গ্রাম। পাকসেনারা নির্বিচারে গুলি চালায় নিরীহ গ্রামবাসীর উপর। লোকজনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধরে এনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে শ’ শ’ গ্রামবাসীকে। তাদের মধ্যে করমজা ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ডা. আফাজ উদ্দিন, আব্দুল লতিফ, শেখ কাজেম আলী খাঁ, খোয়াজ শেখ, পিয়ার মন্ডল, জাকের আলী শেখ, সৈয়দ আলী মোল্লা, মহর আলী, জগত নারায়ণ বিশ্বাস, সন্তোষ, শাহজাহান বিএসসি, ফরিদা পারভীনের নাম উল্লেখযোগ্য।
এলাকাবাসী শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে জায়গাটির (ডাববাগান) নতুন নামকরণ করেছেন ‘শহীদনগর’। শহীদনগরে রয়েছে ইপিআরদের ‘গণকবর’। এখানে ঘুমিয়ে আছেন শ’ শ’ মুক্তিপাগল শহীদ গ্রামবাসী। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিকে ধরে রাখতে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডাববাগানে বর্তমান শহীদনগরে ‘বীর বাঙ্গালী’ নামে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। ওই বছরের ১৯ এপ্রিল স্মৃতিসৌধটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে উক্ত স্মৃতি সৌধকে রং কাজে আকর্ষণীয় করা হয়েছে।
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিজু তামান্না বলেন প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা দিনটি স্মরণীয় করতে ও শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
