ফেলে আসা দিনগুলো- ৬৬

এবাদত আলী
(পুর্বপ্রকাশের পর )
প্রতি বছরের ন্যায় চৈত্রের প্রচন্ড দাবদাহের মাঝ দিয়েই ১৪ এপ্রিল ২০১৬, বৃহস্পতিবার এবারের ১৪২৩ বাংলা শুভ নববর্ষের সুচনা। এদিনকে সামনে রেখে সারা দেশের মত পাবনাতেও কদিন আগে থেকেই সাজ সাজ রব পড়ে যায়। বাঙালির প্রাণের স্পন্দন বাংলা নববর্ষ বরণের জন্য পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আল-নকীব চৌধুরী, পাবনা জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক রেখা রাণী বালো, পাবনা জেলা পরিষদ প্রশাসক এম. সাইদুল হক চুন্নু, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রফেসর শিবজিত নাগ, সম্পাদক আঁখিনুর ইসলাম রেমন ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিফাত রহমান সনম, বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারি কল্যাণ সমিতি পাবনা জেলা শাখার চেয়ারম্যান আলহাজ কাজী আব্দুল ওয়াদুদ ও সম্পাদক আলহাজ মোজাহারুল ইসলাম বকুল, কৃঞ্চপুর পাবনার ‘গন্তব্য’ এর সভাপতি বদরুন নাহার, পাবনা প্রেসক্লাব সড়কের আজাদ সুপার মার্কেটের“ সুনাম গ্রাফ” সহ আরো বেশ কিছু সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাংলা নববর্ষ পালনের বিভিন্ন কর্মসুচি ও শুভেচ্ছা কার্ড পেলাম। পাবনা স্কয়ার ফুড আ্যান্ড বেভারেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টুর পক্ষ থেকে প্রতি বছরের মত এবারও পাবনা আ্যডওয়ার্ড কলেজ মাঠের ‘ রুচি বৈশাখী উৎসব’ এবং এনটিভির লাইভ প্রোগ্রাম দেখার আমন্ত্রণও পাওয়া গেলো। আর পাবনা প্রেসক্লাবের সদস্য হবার সুবাদেই এসব আমন্ত্রণ পাবার পথ সুগম হয়েছে বলতেই হয়।
বাঙালির ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বর্ষবরণের ইতিহাস। তেমনি স্বকীয়তা নিয়ে এদিন সকালে পাবনা প্রেসক্লাবে শুরু হয় বাংলা নববর্ষ বরণের
অনুষ্ঠান। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘‘এসো হে বৈশাখ/ এসো এসো। তাপসনিশ্বাসবায়ে মমুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে/ বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক/ যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয় গীতি/ অশ্রুবাষ্প সুদুরে মিলাক।’’। এই গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সুচনা। এদিন সকাল সাতটা এক মিনিটে অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও বাঙালির ঐতিহ্যগত কারণে শুরু করতে বিলম্ব ঘটে। আমি এবং আমাদের মত বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও অতিথি সময়মতই হাজির হই। কিন্তু তাতে তো আর অনুষ্ঠান হয়না? যাক আস্তে ধীরে অতিথিবৃন্দ আসতে শুরু করলেন। একে একে এসে উপস্থিত হলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আল নকীব চৌধুরী, পাবনা জেলা প্রশাসক রেখা রাণী বালো, এডিসি জেনারেল মুন্সি মনিরুজ্জামান মিয়া, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রেজাউল রহিম লাল, পাবনা বারের সাবেক সভাপতি আ্যাডভোকেট জহির আলী কাদেরি, প্রফেসর শাহনাজ সালাম, পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পাবনা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ মোশাররফ হোসেন, টেবুনিয়া বীজ উৎপাদন খামারের উপ পরিচালক মোঃ মহিবুর রহমান, পাবনা জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মাহাতাব উদ্দিন, নাকাব এর পাবনা জেলা সভাপতি ডা. ইলিয়াস ইফতেখার রসুল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন প্রমুখ আমন্ত্রিত অতিথি বৃন্দ। এ ছাড়া পাবনা প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ ও তাদের পরিবারবর্গ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পাবনা প্রেসক্লাবের ভি আই পি মিলনায়তনের টেবিল চেয়ার সরিয়ে সারা মেঝ জুড়েই বিছানো হয়েছে দামি সতরঞ্জি ও চাদর। সন্মানিত অতিথি বৃন্দ, পাবনার সাংবাদিক বৃন্দ ও তাদের পরিবারের সদস্য বৃন্দসহ সব বয়সের সব শ্রেণির মানুষ একই বৈঠকে শামিল। বাংলা নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠানে বাঙালিারা আজ একই সামিয়ানার নিচে। মিলনায়তনের গোটা দেয়াল জুড়ে টাঙানো হয়েছে বিভিন্ন রঙের বেলুন। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য কুলা চালুনের ওপর লেখা হয়েছে শুভ নববর্ষ। সিকায় রাখা হয়েছে মাটির হাঁড়ি। এসবই গোটা পরিবেশকে আকর্ষনীয় ও মোহনীয় করে তুলেছে।
শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিফাত রহমান সনম। এরপর সকলকে শুভেচ্ছা জানান প্রেসক্লাবের নব নির্বাচিত সম্পাদক আঁখিনুর ইসলাম রেমন, সভাপতি প্রফেসর শিবজিত নাগ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পাবনা জেলা প্রশাসক রেখা রাণী বালো, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আল নকীব চৌধুরী, ও পাবনা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ মোশাররফ হোসেন।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর পাবনা শহীদ সাধন সঙ্গীত কলেজের শিক্ষক আবুল কাশেম ও পাবনা গণশিল্পী সংস্থার শিল্পীবৃন্দ সঙ্গীত পরিবেশন করেন। বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেয়ার জন্য বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী গান এসোহে বৈশাখ দিয়ে শুরু করে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধাঁচের সঙ্গীতের সুরের মুর্চ্ছনায় প্রেসক্লাবের ভিআইপ মিলনায়তনের দর্শক শ্রোতাদের হৃদয় মন ভরে ওঠে। সঙ্গীতের মাঝেই সকালের নাস্তা। এবাবের পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ বরণের জন্য বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী বাঙালির জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের মাঝে এই প্রথম বাংলা নব বর্ষ বরণ উৎসব ভাতা চালু করেন। তাছাড়া এবারের নব বর্ষ বরণে পান্তা ইলিশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক নিরুৎসাহিত করায় সারা দেশের ন্যায় পাবনা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ তাই সকালের নাস্তায় পান্তা ইলিশের পরিবর্তে খিচুড়ি ও মুরগির মাংস, সেই সাথে চিড়া, দই আর মিষ্টির ব্যবস্থা করেন। প্রেসক্লাব সভাপতি কর্তৃক নব বর্ষের স্মারক উপহার প্রদান করা হয়।
প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠান শেষ করতেই পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল পৌর মিলনায়তন (মুক্তমঞ্চ) পর্যন্ত বর্নাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগদানের পালা। এই শোভাযাত্রায় শিশু কিশোরসহ হাজারো মানুষের পদচারনায় সমগ্র শহরই যেন মুখরিত হয়। রুচি বৈশাখী উৎসবের আরেকটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল পৌর মিলনায়তন থেকে বের করা হয়। এই শোভা যাত্রায় নেতৃত্ব দেন স্কয়ার ফুড এন্ড বেভারেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। এসময় পাবনা বনমালি শিল্পকলা কেন্দ্রের সাবেক সম্পাদক আবুল মাসুদ লালসহ শহরের গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গ, স্কয়ারের বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা কর্মচারি ও সব বয়সের , সব শ্রেণি পেশার হাজারো মানুষ। এই বর্নাঢ্য শোভা যাত্রা নানারূপ বাদ্যের তালে তালে পাবনা অ্যাডওয়ার্ড কলেজে গিয়ে শেষ হয়। স্কয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টুর উদ্যোগে আ্যডওয়ার্ড কলেজ মাঠে রুচি বৈশাখী উৎসবে মেতে ওঠে হাজার হাজার দর্শক শ্রোতা। রুচি বৈশাখী অনুষ্ঠান শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু।
অনুষ্ঠানের আয়োজক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু বলেন, বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসব দেশে ও দেশের বাইরের সঙ্গে উপভোগ করবো। সকল গ্লানি ধুয়ে মুছে নতুন করে সবাই নিজেকে সাজাবে এটাই প্রত্যাশা। কনসার্ট উপভোগ করেন পাবনা ৫ পাবনা সদর আসনের এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স, পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এম সাইদুল হক চুন্নু, পাবনা জেলা প্রশাসক রেখা রাণী বালো, পাবনা পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবীর, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পাবনা জেলা ইউনট কমান্ডের কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা সদর উপজেলা চেয়ারম্যন আলহাজ মোশাররফ হোসেন, স্কয়ার ফার্মাার আবাসিক উপদেষ্টা দবির উদ্দিন আহমেদ, পৌর মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু,
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিচালক মোঃ সাইফুল আলম স্বপন চৌধুরী, রানা প্রপার্টিজ এন্ড ডেভলপারের চেয়ারম্যন রুহুল আমিন রানা বিশ্বাস, মাসপো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী মোর্তজা বিশ্বাস সনি, পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, সহ সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক এবি এম ফজলুর রহমান, পাবনা সংবাদপত্র পরিষদ সভবাপতি আব্দুল মতীন খান, সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান শহীদ, দৈনিক চাঁদিনী বাজার পত্রিকার পাবনা ব্যুরো পরিচালক এইচ কে এম আবু বকর সিদ্দিক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবাদত আলী প্রমুখ।
এ ছাড়াও পাবনার অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকগণ তথায় উপস্থিত ছিলেন। বর্নাঢ্য এই আয়োজনটিতে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল জলের গান এর পাশাপাশি স্বনামধন্য কন্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীর, কনা ও ক্লোজ আপ ওয়ান তারকা রিংকু সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তার সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন ওয়ার্দা রিহাব ও তার দল। অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রচার করে বেসরকারি টিভি চ্যানেল এন টি ভি।
বাংলা নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠান শুধু পাবনা শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলোনা। বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক অনুষ্ঠানমালা ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন পাড়া মহল্লাতেও জাক জমকভাবে বরণ করে নেয়া হয় চৌদ্দ শ তেইশ বাংলা নব বর্ষকে।
(লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট)
এবাদত আলী
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি,আটঘরিয়া প্রেসক্লাব ও
সদস্য পাবনা প্রেসক্লাব
তারিখ: ১৩/০৪/২০২৬.