ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা:
ঈশ্বরদীতে ভুয়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পরিচয় দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে দুটি পাসপোর্ট, দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং একটি ভুয়া জেলা ও দায়রা জজের পরিচয়পত্র উদ্ধার হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঈশ্বরদী থানা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তি জিয়া পির মোহাম্মদ আলী (৪৫)। তার বাড়ি যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার বাগমারা গ্রামে। তিনি মৃত আব্দুল আলীমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জিয়া পির মোহাম্মদ আলী আগে যশোর জেলা দায়রা জজ আদালতে সেরেস্তাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে দুর্নীতি ও চারিত্রিক অবনতির অভিযোগে তিনি চাকরি হারান।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ওই ব্যক্তি থানায় এসে নিজেকে ঝিনাইদহের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পরিচয় দেন এবং কিছু সময় বিশ্রামের জন্য থানায় অবস্থান করতে চান। পরে তাকে ওসির কক্ষে বসিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
এরপর তিনি ডিউটি অফিসারের কাছে গিয়ে জানান, তার ট্রেন ছাড়তে দেরি আছে—তাই রেলওয়ে স্টেশনে একটি রেস্টরুমের ব্যবস্থা করে দিতে বলেন। ডিউটি অফিসার জানান, ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশন-এ কোনো রেস্টরুম নেই।
তখন তিনি জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় একটি কক্ষের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। ডিউটি অফিসার তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিলেও তিনি বারবার নিজ ক্ষমতার কথা বলে নির্দেশ দিতে থাকেন। এছাড়া তিনি থানার পুলিশ দিয়ে তাকে ট্রেনে তুলে দেওয়ার জন্যও একাধিকবার নির্দেশ দেন।
একপর্যায়ে তার আচরণ ও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে ডিউটি অফিসার তার পরিচয়পত্র দেখতে চান। কিন্তু তিনি পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন এবং অশোভন আচরণ শুরু করেন। এতে সন্দেহ আরও বাড়লে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি নিজেকে ভুয়া পরিচয়দানকারী হিসেবে স্বীকার করেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, “ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি থানার হাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠানো হয়
