প্রশংসনীয় কাজ করেও হেনস্তার স্বীকার যুবক: মামলা ও সাজার ভয় দেখিয়ে বন বিভাগের কর্মচারী কর্তৃক ঘুষ গ্রহণ

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে :
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়ে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয় সোহাগ ফকির নামে এক যুবক। স্থানীয়রা তার এ কাজে প্রশংসা করলেও বাঁধ সাধে উপজেলা বন বিভাগের মালি দেলোয়ার বেপারী। সে সোহাগ ফকিরের পরিবারকে মামলা ও সাজার ভয় দেখিয়ে দর কষাকষির পরে হাতিয়ে নিয়েছে ১১ হাজার টাকা। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদী-আগৈলঝাড়া-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের (আগৈলঝাড়া ফিলিং স্টেশন)’র সামনে সড়কের পাশে ময়লা আর্বজনা স্তুপে বৃহস্পতিবার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের জলিল ফকিরের ছেলে সোহাগ ফকির। আগুনে সড়কের পাশের কয়েকটি গাছের কিছু পাতা সামান্য পুড়ে যায়। এঘটনায় উপজেলা বনবিভাগের বাগান মালি দেলোয়ার বেপারী সোহাগ ফকিরের বাড়ি গিয়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানা ও মামলার ভয় দেখিয়ে অফিসে আসতে বলে। পরে সোহাগ ফকিরের পিতা জলিল ফকির অফিসে এলে দর কষাকষির একপর্যায়ে ১১ হাজার টাকা ঘুষ নেয় দেলোয়ার বেপারী।
এঘটনার পর সোহাগ ফকিরের পিতা জলিল ফকির একই দিন সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক’র কাছে মৌখিকভাবে ঘটনাটি জানান। টাকা নেওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। বনবিভাগের মালি দেলোয়ার বেপারী ভুক্তভোগী সোহাগের বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরৎ না দিয়েই সাংবাদিকদের কাছে টাকা ফেরৎ পাওয়ার কথা জানাতে বলে সোহাগকে।

ভুক্তভোগী সোহাগ ফকির জানান, তেলের পাম্পের সামনে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসা বাড়ির ময়লা-আবর্জনার স্তুপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। তাই আমি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছি। এঘটনায় আগৈলঝাড়া বন বিভাগের মালি দেলোয়ার বেপারী মামলা ও জরিমানার ভয় দেখিয়ে আমার পিতার কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছে।

এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম বয়াতি বলেন, তেলের পাম্পের সামনে দীর্ঘদিন যাবত ময়লা আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। সোহাগ ফকির আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে যথেষ্ট ভাল কাজ করেছে। বন বিভাগের কর্মচারী দেলোয়ার বেপারী সোহাগের পরিবারের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি খুবই খারাপ কাজ।

এব্যাপারে উপজেলা বনবিভাগের বাগান মালি অভিযুক্ত দেলোয়ার বেপারী টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, টাকা অন্য একজনের কাছে জমা রয়েছে। আমি টাকা ফেরৎ দেব।

এব্যাপারে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, ভুক্তভোগী সোহাগ ফকিরের পিতা জলিল ফকির আমার কাছে এসেছিল। লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।