মোঃ নূরুল ইসলাম, চাটমোহর (পাবনা)
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চাটমোহর উপজেলা শাখার সেক্রেটারী হাবিবুর রহমান হাবীব ও পৌর সেক্রেটারি সাদ্দাম হোসেন মাস্টারকে মারধোরের ঘটনায় পাবনার চাটমোহর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার চাটমোহর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল হামিদ একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে চাটমোহর উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব সাচ্চুসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের আরও ৮ জন নামীয় আসামীসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) চাটমোহর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
মামলার অন্য আসামীরা হলেন, লিখন বিশ্বাস, বাবলু, শাহীন, মিলন মোল্লা, শাহিনুর, মাসুম, শাকিল ও ইমন হোসেন। চাটমোহর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কালবেলাকে মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। দুপুরের দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের সামনে ঘটে মারধোরের এ ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার ছিল উপজেলা পরিষদের ডাকা হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল জমা দেওয়ার শেষ দিন। একইসঙ্গে বিকেল ৩টায় জমা দেওয়া টেন্ডার বাক্স খোলার সময় নির্ধারিত ছিল। দুপুরে ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আওরঙ্গজেব ছাইকোলা হাটের টেন্ডার শিডিউল জমা দিতে উপজেলায় যান।
হাবিবুর রহমান বলেন, আমার এলাকার একটি সমস্যা নিয়ে আমি ইউএনও অফিসে গিয়েছিলাম। টেন্ডার জমা দেওয়ার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি জানতামও না। কাজ শেষে আমি ইউএনও অফিস থেকে বের হবার সময় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কিছু নেতা কর্মী আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এ ঘটনার পর পাবনা-৩ আসনের জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলী আছগার সাংবাদিক সম্মেলন করে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। হামলাকারীদের আটকের দাবীতে জামায়াত নেতারা বিক্ষোভ মিছিলও করে।
চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, মারধোরের অভিযোগে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
