মোঃ নূরুল ইসলাম, চাটমোহর (পাবনা)
পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা হাটের টেন্ডার শিডিউল দাখিল করা নিয়ে এখন মুখোমুখি অবস্থানে বিএনপি-জামায়াত নেতা কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) টেন্ডার দাখিলকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের সামনে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান হাবিব, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি সাদ্দাম হোসেনসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
অপর দিকে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ পাবনা-৩ এলাকায় জামায়াতের এমপি হওয়ায় বৃহস্পতিবার চাটমোহরের কতিপয় জামায়াত নেতা অন্য ব্যবসায়ীদের টেন্ডার শিডিউল দাখিল করতে বাঁধা দিচ্ছিলেন। এসময় সাধারণ হাটবাজার ব্যবসায়ীরা এর প্রতিবাদ করলে তাদের সাথে জামায়াত নেতাদের বাক বিতন্ডা হয়। বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করতে জামায়াত নেতারা অহেতুক বিএনপি’র উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে উপজেলার সারোড়া গ্রামে জামায়াতের সাবেক আমির তোরাব আলী বিশ্বাসের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্থানীয় এমপি মাওলানা আলী আছগার হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান। উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলও করা হয়। মিছিলটি চাটমোহর পৌর সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে শাহী মসজিদ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
অন্য দিকে চাটমোহর পৌর ও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার রাত দশটায় বিলচলন ইউনিয়নের দোলং গ্রামে সাংবাদিক সম্মেলন শেষে চাটমোহর পৌর সদরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্টার মোড় এলাকায় পথ সভা করে দলটির নেতা কর্মীরা।
এসময় চাটমোহর পৌর বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান আরশেদ, সাবেক সভাপতি এ এম জাকারিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম কালু, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আরজ খাঁন, সাবেক ভিপি সেলিম রেজা, বিএনপি নেতা লিখন বিশ্বাস, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল করিম তারেক, শ্রমিক
দল নেতা মোন্তাজ উদ্দিন, যুবদল নেতা জাবেদ মোল্লা, গোলজার হোসেনসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, টেন্ডার শিডিউল দাখিলের সাথে আমার কোন স¤পৃক্ততা ছিল না।
অহেতুক আমাদের মারধোর করা হয়েছে।
চাটমোহর পৌর বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান আরশেদ জানান, ছাইকোলা হাটের টেন্ডার ড্রপকে কেন্দ্র করে জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারী হাবিবুর রহমান এবং পৌর জামায়াত সেক্রেটারি সাদ্দাম হোসেনসহ তাদের লোকজন টেন্ডার বক্স ঘিরে রেখেছিল। তারা দুজনই শিক্ষক। তারা অন্য ব্যবসায়ীদের টেন্ডার ড্রপ করতে দিচ্ছিল না। এ নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সাথে তাদের বাক বিতন্ডা হয়। বিএনপি নেতা কর্মীরা তাদের মারধোর করেছে এ কথা মিথ্যা ও ভ্রান্ত। জামায়াত নেতারা অহেতুক বিএনপির উপর যে দায় ভার চাপানোর চেষ্টা করছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী জানান, ঘটনা একটা ঘটেছে। ফৌজদারি অপরাধ হয়েছে। আজকে টেন্ডার দাখিল ও খোলা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। তারপরও কীভাবে ঘটনা ঘটল, সেটি আমি বলতে পারছি না।
চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় চাটমোহর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল হামিদ একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
