শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত দেশপ্রেম ও কালজয়ী আদর্শ ধারণ করেই বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (৩১ মে) বিকেলে শহীদ জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন এমন এক মহান নেতা, যার সততা ও কর্মনিষ্ঠার কারণে বিদেশের মানুষ এক নামে বাংলাদেশকে চিনতো। প্রবাদ আছে, যে গাছ ফল দেয়, সেই গাছেই মানুষ ঢিল মারে; শহীদ জিয়ার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। তবে তিনি যেভাবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশ এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, আমরা এখন ঠিক সেভাবেই দেশের শাসনভার ও রাষ্ট্রীয় খাতগুলো পরিচালনা করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি।’
টুইন টাওয়ার বা বহুতল ভবনের রাজনৈতিক মেরুকরণের এই সময়ে বিএনপির সামনে অত্যন্ত কঠিন, সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে বলে নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ক্রান্তিকালে দলের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সর্বোচ্চ সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে; অন্যথায় দেশ এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান মনে করিয়ে দেন যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের মানুষের কল্যাণে বিএনপির একটি সুনির্দিষ্ট ইশতেহার ছিল। নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পর এখন সেই ইশতেহারে প্রতিফলিত দেশের ৫২ শতাংশ মানুষের পবিত্র রায় ও আকাঙ্ক্ষা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে। শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি, সর্বজনীন শিক্ষা এবং শিল্প বিপ্লবের মতো যুগান্তকারী বিষয়গুলো আমাদের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং বর্তমান সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সেই কাজগুলোই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাতীয় বেতন কাঠামো সংস্কার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি খাতকে এগিয়ে নিতে জিয়াউর রহমান যে দূরদর্শী পথনির্দেশিকা রেখে গেছেন, তা অনুসরণ করেই বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। তবে সরকারের এই মহাপরিকল্পনা সফল করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘সরকারের গৃহীত সঠিক ও কল্যাণমুখী কাজগুলোতে সাধারণ মানুষ এবং নেতা-কর্মীরা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করলেই কেবল এই সরকার সফল হবে। শুধু আমরা ওপর থেকে কাজ করলেই হবে না; বরং কেন্দ্র থেকে শুরু করে একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত দলের সব নেতাকর্মীকে সরকারের লক্ষ্যগুলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বর্তমান প্রশাসনকে জনগণের চোখে একটি শতভাগ সফল, জবাবদিহিমূলক ও আদর্শ সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
