বিএনপি কর্মীদের হাতে জামায়াত নেতা লাঞ্ছিত

মোঃ নূরুল ইসলাম, চাটমোহর (পাবনা)
পাবনার চাটমোহরে হাটের দরপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠণের নেতা-কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন চাটমোহর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এঘটনার পর চাটমোহরের সাড়রা গ্রামে বিকেল ৪টায় জরুরী এক সংবাদ সম্মেলনে পাবনা-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আছগার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষিদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অপরদিকে ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষিদের শাস্তির দাবিতে বিকেল ৫টায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন হাটের দরপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিলো। কয়েকটি হাটের দর সমঝোতার মাধ্যমে ঠিক করে বিএনপি নেতা কর্মীরা। ওই সকল হাটের
দরপত্র যেন কেউ দাখিল করতে না পারে, সে জন্য সকাল থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি)র কার্যালয়ে অবস্থান নেয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠণের নেতা কর্মীরা। এরমধ্যে দুপুর সাড়ে
১২টার দিকে উপজেলার ছাইকোলা হাটের দরপত্র দাখিল করতে আসেন ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মোঃ আশরাফুল ইসলাম। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি
মওলানা মোঃ হাবিবুর রহমান। ছাইকোলা হাটের দরপত্র নির্দিষ্ট বাক্সে দাখিল করার পরপরই বিষয়টি জানতে পেরে বিএনপি কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দোতলা থেকে
জামায়াতের সেক্রেটারিকে টেনে হেঁচড়ে নিচে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এসময় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও
আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।

লাঞ্ছিত জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান জানান, হাটের ইজারা বা দরপত্র দাখিলের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। আমি অন্য একটি কাজে সেখানে গিয়েছিলাম। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের লোকজন আমার উপর
হামলা করে। আমি দোষিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী জানান, বিষয়টি শুনছি। ঘটনাটি বাইরে হয়েছে। বলতে পারছিনা, কী ঘটেছে।

এ বিষয়ে চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সরোয়ার হোসেন জানান, আমি পাবনাতে আছি। শুনেছি দু’পক্ষের মধ্যে
হাতাহাতি হয়েছে। এখনো কোন অভিযোগ কেউ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।