কিশোরগঞ্জে জমিজমা বিরোধে আইনজীবি সহকারীকে মারধরের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

এ ঘটনায় গত ৬ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী মো. লিয়াকত আলী (৬৫) কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। লিয়াকত আলী কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পাড়াপড়মানন্দ (পাগলাকান্দা) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন আইনজীবী সহকারী। অন্যদিকে অভিযুক্তরা হলেন, একই গ্রামের ঝুমা আক্তার, পপি আক্তার, হানিফ মিয়া, সোহেল মিয়া, রাবেয়া খাতুন, মুহেছানা আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাবি ও ভাতিজা–ভাতিজিদের সঙ্গে বাড়ির জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে আমার বসতঘরের উঠানে প্রবেশ করেন। হামলাকারীরা ঘরের দেয়াল ও দুটি পানির পাইপ ভেঙে ফেলেন। এতে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাধা দিতে গেলে আমাকে মারধর করা হয়। এতে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ও ফুলে যাওয়ার মতো জখম হয়।

তিনি আরও বলেন, আমার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা আমাকে ও আমার পরিবারকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ভবিষ্যতে জোরপূর্বক জায়গা-সম্পত্তি দখলের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। এর আগেও অভিযুক্তদের বাবা শওকত আলী আমার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছিলেন। লিয়াকত আলীর দাবি, সেসব মামলায় আদালত থেকে আমাকে অব্যাহতি ও খালাস দিয়েছেন।

অভিযুক্তদের আচরণে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান।

এলাকাবাসী জানান, এর আগেও ঝুমা গং লিয়াকত আলীর ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে আহত করে। এ নিয়ে থানায় একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত পক্ষ অপরাধ করেও সালিস বা মীমাংসা মানে না, বরং লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরেজমিন তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।