পাবনা-১ সাঁথিয়া আসনটি জাতীয় সংসদে গুরুত্ব বহন করে

আবু ইসহাক সাঁথিয়া *
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকী আর মাত্র কয়েক দিন। এরই মাঝে পাবনা-১ সাঁথিয়া উপজেলা আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ আলোচনা ক্রমশ বেড়ে চলছে। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় প্রার্থীদের সাথে নেতা কর্মীরাও ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর পক্ষে – বিপক্ষে কথার বাণ চলছে।
পাবনা-১ আসনটি জাতীয় সংসদে অনেক গুরুত্ব বহন করে। এ আসনের সাংসদরা বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পালন করেছন।
এ আসন দীর্ঘ বছর আওয়ামীলীগ এর দখলে ছিল। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে ছিল বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী। পুর্বে তারা জোটে থাকলেও এবার তারাই মুল প্রতিদ্বন্দ্বী। এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে মাঠে নেমেছেন ভিপি শামসুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। অপর দিকে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী সাবেক কৃষি, শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াত ইসলামীর সাবেক আমীর প্রয়াত মওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিষ্টার নাজিবুর রহমান মোমেন দাড়ি পাল্লা প্রতীক নিয়ে। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জামায়াত ইসলামীর প্রয়াত মওলানা মতিউর রহমান নিজামী নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যারিষ্টার নজিবুর রহমান মোমেন তৃনমুল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের নিয়ে মাঠে নেমেছেন। গ্রাম থেকে শুরু করে এ দলের মজবুত সংগঠন মাঠে নেমেছেন। ইতিমধ্যে আওয়ামীলীগসহ অন্য দল থেকে জামায়াত ইসলামী দলে যোগ দিয়েছে নেতা কর্মীরা।

অপর দিকে বিএনপির প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় ১৯৭৯ সালে ভোটে আঃ আওয়াল মির্জা নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর বিএনপি থেকে জোটের কারনে কোন প্রার্থী হওয়ার সুযোগ যেমন হয়নি বা বিএনপি থেকে কোন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। এবারের নির্বাচনে সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি শামসুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছেন। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করে একটি শক্ত সাংগঠনিক ভিত্ত গড়ে তুলেছেন। দলীয় ভোট ব্যাংক ও ব্যক্তি জনপ্রিয়তা তাকে প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থানে রেখেছে। তিনি ইউনিয়ন, ওয়াড বা গ্রাম পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে রাত দিন ভোট চাচ্ছেন ধানের শীষ প্রতীকে।
এদিকে সংবিধান প্রনেতা আওয়ামীলীগের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ড. অধ্যাপক আবু সাইয়্যিদ স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রত্যাহার করে বিএনপিতে যোগদান করায় সর্বোত্রে আলোচনার কেন্দবিন্দুতে পরিনত হয়েছে। কার বাক্স ভারি হবে, ধানের শীষ নাকি দাড়ি পাল্লা। সাধারণ থেকে নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন এ নির্বাচনে হবে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই।
এ আসন থেকে পর্যায়ক্রমে জাতীয় পার্টির মেজর (অবঃ) মন্জুর কাদের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, আওয়ামীলীগের অধ্যাপক আবু সাইয়্যিদ তথ্যপ্রতিমন্ত্রী, চারদলীয় জোটের মওলামা মতিউর রহমান নিজামী কৃষি ও শিল্পমন্ত্রী, আওয়ামীলীগের শামসুল হক টুকু স্বরাষ্ট্র ও ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
অন্য প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখার প্রার্থী আঃ গনি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাজুল ইসলাম মোটরসাইকেল প্রতিক নিয়ে
নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছেন।
পাবনা-১ সাঁথিয়া উপজেলার এ আসনটি একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নে মোট ৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৩১ ভোট রয়েছে।
উল্লেখ ৬৮ পাবনা-১ আগে সাঁথিয়া উপজেলা ও বেড়া উপজেলার আংশিক নিয়ে নির্বাচনী আসন ছিল। এ বছর শুধু সাঁথিয়া উপজেলা একক সংসদীয় আসনে ভোট হবে।