পাখি রক্ষায় ইউএনও ও পরিবেশ কর্মীদের প্রচারণা ১১ শালিক অবমুক্ত ॥ ছয় হাজার মিটার কারেন্ট জাল ধ্বংস

চলনবিলে পাখি শিকারের দৌরাত্ম্য বেড়েছে

নাটোর প্রতিনিধি
শীতের শুরুতেই চলনবিলে পাখি শিকারের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। আর সেই বিলের পাখি রক্ষায় নিয়মিত কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা। বুধবার কাকডাকা ভোর থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত সিংড়ার চলনবিলের সাতপুকুরিয়া, ডাহিয়া ও চৌগ্রাম বিলে অভিযান পরিচালনা করে প্রায় চার হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও বিভিন্ন পাখি শিকারের ফাঁদ জব্দ করে পুড়িয়ে দেয় প্রশাসন। এসময় কারেন্ট জালের ফাঁদ থেকে ১১ টি শালিক পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করেন পরিবেশ কর্মীরা। বিলের পাখি রক্ষায় কাঁদাপানি মাড়িয়ে পাখি শিকারি ও বিলপাড়ের মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ ও সচেতনতামূলক পথসভা করেন সিংড়ার ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত ও চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮ টায় ইউএনও এর নির্দেশে মহেশচন্দ্রপুর ও শহরবাড়ি বিলে অভিযান পরিচালনা করেন স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা। দুই পাখি শিকারি দৌড়ে পালিয়ে গেলেও সেখান থেকে আরো দুই হাজার মিটার কারেন্ট জালের ফাঁদ জব্দ করে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, শীতে চলনবিলে দেশীয় শালিক, ঘুঘু, বক, বালিহাস, রাতচোড়া, শামুকখোল সহ অতিথি পাখির আগমন ঘটেছে। কারেন্ট জাল সহ বিভিন্ন ফাঁদে এই পাখিগুলো রাতের আধাঁরে শিকারে নেমেছে এক শ্রেণির শিকারিরা। পরে সেই পাখিগুলো ব্যাগ ও বস্তায় নিয়ে গোপনে বিক্রয় হচ্ছে। বিলের পাখি রক্ষায় প্রশাসন ও বন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় তারা এক যুগ ধরে কাজ করছেন।
ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, চলনবিলে পাখির আগমনে প্রকৃতির যেন সৌন্দর্য্য ফুটে উঠেছে। পাখি শিকার রোধে উপজেলা প্রশাসন সব সময় তৎপর রয়েছে। পাখি শিকারে তথ্য পেলেই সেখানে ছুটে যাচ্ছেন এবং মানুষদের সচেতন করছেন। পেশাদার শিকারিদের অর্থদন্ড সহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আওতায় আনছেন।