সাংবাদিকতার চার যুগ- ২৬

এবাদত আলী
নছিমন- করিমন বা ভটভটিতে চড়ে সল্পব্যয়ে অতি সহজেই গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া যায়। অপর দিকে কৃষককূল এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরকে আর মালামাল পরিবহনের জন্য বেশি বেগ পেতে হয়না। ট্রলিযুক্ত পাওয়ার টিলার দ্বারা অতি সল্প ব্যয়ে সে কাজ সমাধা হয়। অনুরূপ ভাবে নদী পথে চলাচলকারি শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকা বা ভুট ভুটিতে যাত্রি পারাপার ও মালামাল পরিবহন অতি সহজতর হয়। ফলে এগুলোর চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকে।
অশিক্ষিত বেকার যুবকের পাশাপাশি শিক্ষিত যুবকেরাও চাকুরির জন্য জুতার তলা ক্ষয় না করে সল্প পূঁজি সংগ্রহ করে কিংবা ব্যাংক ঋনের মাধ্যমে নছিমন- করিমন কিংবা ট্রলিযুক্ত পাওয়ার টিলার ক্রয় করে তা ভাড়া খাটিয়ে বেকারত্ব ঘুচায়। এমনি ভাবে বহু লোকের কর্মসংস্থানের পথ সুগম হয়।
তবে সড়ক মহাসড়কে চলাচল কারি নছিমন- করিমন বা ভটভটি কিংবা ট্রলিযুক্ত পাওয়ার টিলারের ড্রাইভারগণের কোন প্রশিক্ষণ নেই। এরা নাচতে নাচতে নাচুনি এর মত উক্ত ইঞ্জিন চালিত যানবাহন চালাতে চালাতে তারা চালক বনে যায়। এরা লেফট-রাইট বোঝেনা, ট্রাফিক সিগন্যাল চেনেনা। এসব যানবাহনে হেডলাইট থাকলেও তা আপার ডিপার করা যায়না। আর ড্রাইভারগণ এসব চেনেওনা। এ সকল যানবাহন চালকের যেমন কোন লাইসেন্স থাকেনা ,-গাড়ির জন্য থাকেনা কোন ব্লুু-বুক। রুট পারমিট সম্পর্কে তাদের নুন্যতম কোন ধারণা আছে বলে মনে হয়না। বাহনে প্যাসেন্জার তুলে হ্যান্ডেল মেরে স্ফুর্তির সাথে দ্রুত গতিতে খ্যাপ মারতে থাকে, তারা এ কথা কস্মিনকালেও ভাবেনা যে, যে কোন সময় প্যাসেন্জার সহ নিজেও পেঁয়াজের খ্যাপে চলে যেতে পারে। আবার প্যাসেন্জারগণ ও জেনে বুঝেই এ ধরনের মরন ভেলার যাত্রী হয়ে থাকে। ভেহিক্যাল এ্যাক্ট অনুসারে এ ধরনের যানবাহন রাস্তায় চলাচল সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ। এই নিষেধ উপেক্ষা করে সড়ক মহাসড়কে হরদম নছিমন চলে, করিমন চলে, চলে আলম সাধু ও পাওয়ার টিলার ট্রলি।
এ সব দেখার দায়িত্বে যাঁরা নিয়োজিত তারাও নাকি দশআনা-ছআনা করে থাকে। কিছু বকশিস বা নজরানার বিনিময়ে তারা দেখেও না দেখার ভান করে। হয়তো বা তাদের আস্কারা পেয়ে পেয়েই এ ধরনের যানবাহনের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনা। এই নছিমন- করিমন আর পাওয়ার টিলারের অবাধ চলাচলের ফলে এবং যত্র তত্র মালামাল ও যাত্রী বহন করতে গিয়ে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও মিনিবাসের চলাচলের ক্ষেত্রে দারুন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বাস, মিনিবাস ও ট্রাক মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে মাঝে মধ্যে বেশ তৎপরতা দেখা যায়। প্রশাসন তখন তড়ি ঘড়ি করে সভা ডেকে বসে। সভায় আলোচনা হয় –সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত ও গৃহীত হয়। কিন্তু কাজের কাজ কতটুকু হয় ? যথা পূর্বং তথা পরং । অপর দিকে নছিমন –করিমন চালকদের তরফ থেকেও এ ধরণের যান বাহন চলাচলে নিষেধাঞ্জা জারী না করার জন্যও জোরালো দাবি উত্থাপিত হয়। নছিমন- করিমন রাস্তায় চলাচল করতে না দিলে এই যানবাহনের সাথে সম্পৃক্ত হাজার হাজার চালককে বেকারত্বের বোঝা বহন করতে হবে। পক্ষান্তরে তাদের পরিবার পরিজনের মুখে আর আহার জুটবেনা। তা ছাড়া যারা ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে এ ব্যবসায় পূঁজি বিনিয়োগ করেছে তাদের কি উপায় হবে? অতি সল্প ভাড়ায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে অভ্যস্ত যে সকল যাত্রী তাদেরই বা কি গতি হবে? কথায় বলে ঢিল কাছায় কুঁড়েল বড়। শুরুতেই যদি এ ধরনের যানবাহন রাস্তায় চলতে দেওয়া না হতো তাহলে এ হেন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। বর্তমানে এ ধরনের যান বাহন চালকের সংখ্যা হাজার হাজার। হঠাৎ করে আয়ের পথ বন্ধ করে দিলে এদের পরিবার পরিজনরা যাবে কোথায়? এ ধরনের ঝুকিপূর্ণ যান বাহন চলাচলের উপর নিষেধাঞ্জা জারীর পাশা পাশি চালকদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও ভাবতে হবে বৈকি! ভাবতে হবে যাত্রী পরিবহন সহ মালামাল পরিবহনের কথা। এ ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি এন জি ও কেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে অনেকে মনে করেন। (ক্রমশ:)
।(লেখক ঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট)

এবাদত আলী
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
সদস্য, পাবনা প্রেসক্লাব।
তারিখ ১১-/১১/২০২৫